চলে গেলেন রুপু

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশবরেন্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলী আকবর রুপু। দীর্ঘদিন কিডনীরোগে ভুগে আজ বৃস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।রুপুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু গীতিকার-সাংবাদিক কবুর বকুল।

আলী আকবর রুপুর স্ত্রী নারগিস আকবর গণমাধ্যমকে জানান, কিডনীজনিত রোগ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগে(আইসিইউ)ভর্তি ছিলেন। বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার কর্মস্থল টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের কার্যালয়ে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে রুপুর আবাসস্থল বড় মগবাজারের ডাক্তারের গলিতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।’ তিনি তার স্বামীর জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।গত সাত মাস ধরে তার কিডনির ডায়ালাইসিস করা হচ্ছিল নামকরা এ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালকের। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডায়ালাইসিস করার সময় তার স্ট্রোক হয়। পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হন রুপু। সেদিন অচেতন অবস্থায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল।নাটক, সিনেমা ও বড় বড় শিল্পীদের একক অ্যালবামের জন্য প্রচুর গান লিখেছেন ও সুর করেছেন আলী আকবর রুপু। তার প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য। হানিফ সংকেতের উপস্থাপনায় বিনোদনধর্মী এ অনুষ্ঠানটির জন্য তিনি নিয়মিত গান লিখতেন ও সুর করতেন।সংগীতে আলী আকবর রুপুর শুরুটা গিটারিস্ট ও কিবোর্ড বাদক হিসেবে। ১৯৮০ সালে ‘একটি দুর্ঘটনা’ অ্যালবাম দিয়ে অডিও গানে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম অ্যালবামেই তিনি বাজিমাত করেন। গানগুলো বেশ প্রশংসিত হয়।১৯৮২ সালের দিকে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডে কিছুদিন গিটার ও কি-বোর্ড বাজিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চারণ ছেড়ে দেন। তারপর ‘উইন্ডস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন।১৯৮৪ সালে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘রাস্তার ছেলে’ ছবিতে গান করে জনপ্রিয়তা পান এ সুরকার। মাত্র ছয়টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বেয়াইর কীর্তি’ তার সংগীত পরিচালনায় সর্বশেষ চলচ্চিত্র।আলী আকবর রুপুর সুর ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান জনপ্রিয় হয়েছে। গানের তালিকায় রয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনের ‘প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি’, এন্ড্রু কিশোরের ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’, মুরাদের ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’, কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া ‘একদিন কান্নার রোল পড়বে আমার বাড়িতে’, ‘যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে’, ‘দস্যু যেমন মুখোশ পরে প্রবেশ করে ঘরে’, ‘দরদিয়া’, ‘এ অনিশ্চয়তা’, ‘এ পশলা বৃষ্টি’, শাকিলা শর্মার ‘তোমাকে দেখলেই মৌনতা ভুলে যাই’, সাবিনা ইয়াসমিন, কনক চাঁপা ও সামিনা চৌধুরীর ‘সব চাওয়া কাছে পাওয়া’, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর ‘কবিতার মতো মেয়েটি, গল্পের মতো ছেলেটি’, সামিনা চৌধুরীর ‘জানতে চেয়ো না কোন সে বেদনাতে’, দিনাত জাহান মুন্নীর ‘পুরোনো কাপড়ের মতো আমি আজ অবহেলিত’, মৌটুসীর ‘বারে বারে পোড়া বাঁশি এত রাতে আর ডেকো না’ ইত্যাদি।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে