জমিদারের আয়নায় দেখি নিজের চেহারা

ফয়েজ রেজা
আগে জুতো-চপ্পল পায়ে যে বাড়ির সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষ হেঁটে যেতে পারত না, সে বাড়ির অন্দরমহলে আমরা দিব্যি ঢুকে পড়লাম জুতো পায়ে। ঘুরে বেড়ালাম সারা বাড়ি। অথচ সেজন্য আনন্দ অনুভব করলাম না। এর একটি কারণ হয়তো এইÑ আগে এ বাড়িতে থাকত জমিদার পরিবারের মানুষজন। আর এখন এ বাড়ির বাসিন্দা ইঁদুর, চিকা, চামচিকা, চড়–ই পাখি আর কবুতর। বাড়িটি এখন আর আগের মতো জমিদারদের পায়ের আওয়াজে কেঁপে ওঠে না, রঙ্গমহলের নাচের তালে কিংবা নূপুরের তালে নেচে ওঠে না। আমার মতো দর্শনার্থীর নামে সাধারণ মানুষদের যারা এ বাড়িতে আসে, তারা দিনে এসে দিনেই চলে যায়। ঘুরে-ফিরে দেখে নির্জন বাড়িটি। কত উঁচু দালান, আগের দিনের দোতলা পুরনো বাড়ি এখনকার চারতলা বাড়ির সমান উঁচু। তার ওপর কত কারুকাজ। বাড়ির দেয়াল থেকে ইট ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ার পরও এ বাড়ির কারুকাজ চোখে পড়ে, অবাক করে। আমাদের ভ্রমণসঙ্গীদের একজন তো বলেই ফেললেনÑ কত দিনে নির্মাণ করেছে বাড়িটি। আগে তো এত ইঞ্জিনিয়ার-আর্কিটেক্ট ছিল না, নির্মাণ শ্রমিকও তো এত ছিল না। বাড়িটি কি দিয়ে বানানো? ইটের সঙ্গে কি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি ইট-চুন-সুরকি? সঠিক কোন তথ্যের ওপর নয়, নিজেদের মতামতের ওপর ভর করে আমরা একমত হলাম, বাড়িটি ইট-চুন-সুরকি দিয়েই নির্মিত। আমরা কেউই ইতিহাসের ছাত্র নই, প্রাচীন স্থাপনা ও মানুষ সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণাও নেই। যা জানি লোকমুখে শুনে, আর হয়তো দু’একটি বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে।
মানিকগঞ্জের বালিয়াটি উপজেলার এ বাড়ির নামÑ বালিয়াটি প্রাসাদ। ৫.৮৮ একর জমির ওপর জরাজীর্ণ দেহে দাঁড়ানো প্রাসাদটি। এ নিয়ে দু’বার আমি এ বাড়িতে গিয়েছি। প্রথমবার ১ মে, দ্বিতীয়বার ৫ মে। দু’বার যাওয়ার কারণÑ প্রথমবার মানে ১ মে শ্রমিক দিবস, সরকারি ছুটির দিন। শুক্র ও শনিবার বাদে সরকারি সব ছুটির দিনেই বালিয়াটি প্রাসাদ বন্ধ থাকে। দারোয়ানকে বলে-কয়ে প্রাসাদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলাম, ঘুরেও দেখেছি বাড়িটি। প্রদর্শন কক্ষ সিলগালা করে রাখা, তাই দেখা হল না। প্রদর্শন কক্ষে কী আছে, তা জানতেই দ্বিতীয়বার সরকারি খোলার দিনে বালিয়াটি প্রাসাদে। এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার একটি বাড়িতে যাওয়া, বাড়ির ভেতরে দু’দিন সারাদিন থাকার পরও ভ্রমণ ‘আনন্দদায়ক’। অন্যরা এর কী কারণ ব্যাখ্যা করবেন জানি না, আমার মনে হয়েছেÑ এ বাড়িতে কেউ যদি একা আসেন, খুব নিঃসঙ্গ অনুভব করবেন। নিঃসঙ্গ থাকার মধ্যেও যে বিশেষ আনন্দ অনুভূত হয়, তা জনকোলাহলের এ নগরের মানুষ ভালো অনুধাবন করতে পারবেন। প্রাসাদের ভেতর আপনাকে এতই নিঃসঙ্গ মনে হবে যে, নিঃসঙ্গতায় কান্নাও পেতে পারে। কান্না পেতে পারে আরও একটি কারণে, সেটি হচ্ছে ভয়। দিনের আলোতেও আপনি ভয়ে চমকে উঠতে পারেন এ প্রাসাদের ভেতরে। এমনকি আপনার পাশে হঠাৎ একজনের উপস্থিতি আপনাকে চমকে দিতে পারে, চমকে দিতে পারে একটি পাখির ডাকও। বাড়ির ভেতরের ইঁদুর, চিকা, চামচিকারা অন্ধকারে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে কিংবা খাবারের সন্ধানে ওঁৎ পেতে আছে। আপনার বা আপনাদের উপস্থিতিতে মানুষের গায়ের গন্ধ পেয়ে তারাও হয়তো ভয় পাবে। কিন্তু ভয়ে এসব নিরীহ প্রাণীদের দৌড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে আপনিও ভড়কে যাবেন। প্রাণীদের ডাক আপনাকে ভয়কাতুরে করবে কারণÑ নির্জন এ প্রাসাদে তাদের পদচারণা ছাড়া আর কারও রাজত্ব নেই। বিশাল জায়গাজুড়ে প্রাসাদের ভবনগুলো বিশাল উঁচু উঁচু। ইট ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ছে। বাইরে আলো, ভেতরে অন্ধকার। জানালার ফাঁক দিয়ে আপনি ঘরের ভেতরে তাকাবেন, দেখবেন কাঠের সিঁড়িগুলো ভাঙা ভাঙা। ঘরের দরজা-জানালাগুলো ভাঙা ভাঙা। তাতে আবার তালা ঝুলছে। ভাঙা বাড়িতে ইটের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো ঢুকে পড়ছে ঘরের ভেতর। ভাঙা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে দেখবেন ভীতিকর এক পরিবেশ। প্রাসাদের পরিবেশ যে সত্যি ভয়ংকর তার একটি উদারণ দিই। ভ্রমণসঙ্গীদের সঙ্গে প্রথম দিন বাজি ধরেও এ প্রাসাদের দুটো ভবনের চিপা দিয়ে একা হেঁটে যেতে পারিনি আমি নিজেই। কিছুদূর যাওয়ার পরেই ভয়ে ফিরে এসেছিলাম। দ্বিতীয় দিন আমার এক ভ্রমণসঙ্গীকে ওই ভবন দুটোর মাঝখানে রেখে পেছন থেকে সরে গিয়েছিলাম। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর পেছনে তাকিয়ে যখন দেখলেন আমি নেই, ভয়ে দিয়েছিলেন দৌড়। বিষয়টি এমনÑ আপনি জানবেন আপনার অন্য সঙ্গীরা আশপাশে আছে, তার পরও দিনের আলোয় আপনি এ ভবন দুটোর ফাঁক দিয়ে একা যেতে পারবেন না, নিজেকে যত সাহসী মানুষই মনে করেন। ভবনের ভেতরে গেলে কী পরিবেশ হবে আমরা অনুমান করতে পারব না, কারণ আমরা সে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারিনি। আমরা নিজেরা মশকরা করে এমন কথাও বলেছি, বাংলার সেরা সাহসী সন্তান কে তা পরীক্ষা করা যেতে পারে এ ভবনে। অর্থাৎ তাকে এ ভবনের ভেতরে একা ছেড়ে দিয়ে তার সাহস পরীক্ষা করা যেতে পারে। রাতের অন্ধকারে ছাড়তে হবে না, দিনের আলোতেও এ পরীক্ষা করা যেতে পারে।
প্রথমবার বিচ্ছিন্নভাবে আমরা ঘোরাঘুরি করলাম প্রাসাদের ভেতরে-বাইরে। ছবি তুললাম ইচ্ছেমতো। সেবার আমাদের ভ্রমণসঙ্গীদের বিশেষ একজন ছিল সৌরভ সাখাওয়াত। তার বড় হবি ছবি তোলা। ছবি তোলার কারুকাজ সে দেখিয়েছে সেবার। দ্বিতীয়বার আমাদের ভ্রমণসঙ্গীর বিশেষ একজন ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী। একটি বিশেষ কাজে তার এখানে আসা। বাইরে থেকে দেখে অনুমান করা যাবে না, কতটা রসিক তিনি। এবারই প্রথম তার সঙ্গে আমার এতদূর ভ্রমণ। আমাদের ভ্রমণপথে যাওয়া-আসার মাঝে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেছেন পরম আন্তরিকতায়। গাড়িতে যেতে যেতে আমরা যখন বলতে থাকলাম, জমিদার এত দূর কেন প্রাসাদ গড়েছেন, হাদী ভাই তার অভিজ্ঞতা থেকে রসিকতা করেই জানালেন সত্য তথ্যটিÑ নদীপথে চলাচল করতেন জমিদার। তখন তো যোগাযোগ বেশি ছিল কলকাতার সঙ্গে। পদ্মার বোটে চড়ে, কিংবা জাহাজে চড়ে কলকাতায় যেতে হতো তাদের। আমরা যখন আবার প্রশ্ন করলামÑ নদী কই, সব তো দেখছি ফসলের মাঠ। আমাদের একজন বললেন, বর্ষাকালে এসো, দেখতে পারবে জল। যদিও আমরা অনুভব করলাম, বাংলাদেশের অন্য নদীগুলোর মতো এখানকার নদীগুলোও মরে গেছে। যার ফলাফল আগেকার যুগে বানানো লোহার ব্রিজের নিচে গড়ে উঠেছে টিনের বাড়ি, ইটের ভবন, ভুট্টা ক্ষেত, লেবুর বাগান। আর ব্রিজের পাশে ফ্রিজ মেরামতের একটি দোকান দেখিয়ে হাদী ভাই এও জানালেনÑ তোমরা খোঁজ নাও, এখানে বিউটি পার্লারও পাবে। কত পরিবর্তন হয়েছে আমাদের। এ পরিবর্তন ভালো না মন্দ, তর্ক করে লাভ নেই। পরিবর্তনকে মেনে নেয়াই ভালো, ঝামেলা কম।
পরিবর্তনের ধারায় আরও একটি বড় পরিবর্তন দেখলাম। প্রাসাদের ভেতরে বিভিন্ন ফলের গাছ আছে। তার থেকে আমরা কাঁচা আম পেড়ে খেলাম। দেখলাম কেউ নিষেধ করল না। পাকা পেঁপে ভেবে গাছ থেকে হলদে রঙের যে ফলটি পেড়ে আনলাম, কেটে দেখি ভেতরে কাঁচা। তাই খাচ্ছি আমরা। হাদী ভাইকেও দিলাম খেতে। দিতে দিতে অনুভব করলামÑ জমিদার যদি থাকতেন, চাইলেও প্রাসাদের ভেতরে এভাবে ফল পেড়ে কি খেতে পারতাম আমরা! তবে হাদী ভাই এ প্রাসাদে এসেছেন জানলে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা হতো। কিংবা তিনি আসবেন জানলে নিশ্চয়ই জমিদার আগেই ঘোড়ার গাড়ি পাঠাতেন তাকে আনার জন্য। অভ্যর্থনার ব্যবস্থাও করতেন। মাঝেসাঝে তাকে দাওয়াত করে আনতেন গান শোনার জন্য। জমিদারের পানশালার অতিথি হতেন সৈয়দ আবদুল হাদী। আর আজ…। জমিদার নেই, জমিদারের জমিদারিত্ব নেই… প্রাসাদের জৌলুস ক্ষয়ে জরাজীর্ণ অবস্থা। অতিথি আপ্যায়নের অভিজাত আর বাহারি খাবারের আয়োজনও নেই। তবে প্রাসাদের ভেতরে যেটি জমিদারের রঙ্গশালা ছিল, সেখানে একটু আভিজাত্যের ছাপ সংরক্ষিত আছে। যেমনÑ জমিদারের রঙ্গশালায় কারুকাজ করা দেয়ালটি যতনে সংরক্ষিত। সে ঘরেই আছে জমিদার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করা বেশ কয়েকটি দেয়াল আয়না। কত বড় আর কত সুন্দর আয়নাগুলো। সামান্য আলোয় আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখলাম, আমার মতোই স্বাভাবিক। এমন যদি হতো, জমিদারদের আয়নায় নিজের চেহারা জমিদারদের মতো মনে হতো, একটু ভাব নেয়া যেত। সে আশা পূরণ হলো না। ঘরে ঘরে ঘুরে দেখলাম কাঠের চেয়ার, কাঠের টেবিল, কাঠের খাট, কাঠ মানে যেই সেই কাঠ নয়, একেবারে স্টিকারে লেখাÑ সেগুন কাঠ। অন্য ঘরগুলোতে রাখা আছে ঝুলন্ত হারিকেন, চিমনি, ক্যাশ বাক্সসহ বেশকিছু আসবাব। প্রাসাদের বিশালত্বের তুলনায় খুব সামান্যই এসব আসবাব, জমিদারদের তুলনায় যেমন খুব সামান্য মানুষ আমরা। প্রাচীর ঘেরা সাতটি ভবনে মোট দু’শ কক্ষ। অথচ ঘরে সংরক্ষণে আছে মাত্র একটি খাট। অন্য আসবাব কি জমিদাররা নিয়ে গেলেন? অবান্তর এসব ভাবনা! ওখানকার একজন বললেন, বড় খাটটি আছে ঢাকা জাদুঘরে। অন্য আসবাবের খুব সামান্যই নিতে পেরেছেন জমিদার। বেশকিছু আসবাব নষ্ট হয়েছে যাচ্ছেতাই ভাবে। গুনে গুনে লোহার পনেরটি বড় সিন্দুক এ ভবনের নিচতলার একটি বড় কক্ষে সংরক্ষিত আছে। আগে কী থাকত এতে? টাকা, পয়সা, স্বর্ণ, অলংকার, গহনা। আর এখন কি আছে এতে? হাওয়া-বাতাস, শূন্যতা আর অন্ধকার।
প্রাসাদে যাওয়ার পথেই আমরা জেনেছিলাম, সৈয়দ আবদুল হাদী এর আগেও একবার এসেছেন এ প্রাসাদে। সেবার তিনি এসেছিলেন মাছ ধরতে। হাদী ভাইয়ের বিচিত্র শখের একটি মাছ ধরা। আগে অনেক শৌখিন মানুষের এমন শখ ছিল। এ প্রাসাদের পুকুরে মাছ ধরতেন তিনি। প্রাসাদের পেছনে পুকুরটি। একটি পুকুর, পাঁচটি ঘাট। ঘাট থেকে পুকুরে নামার সিঁড়িগুলো অনেক বড় লম্বা মনে হচ্ছে। এর কারণ পুকুরের পানি তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। পানি নেই, মাছ থাকবে কই। জমিদারিত্ব বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে বুঝি মাছেরও বিলুপ্তি ঘটেছে। বিশাল এ পুকুরের পাড়ে আমরা বসে ছিলাম বহুক্ষণ, নিস্তব্ধ পুকুরের পাড়ে বসে পাখির ডাক শুনে আপনি গাইতেই পারেন ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী’। হাদী ভাই যেমনটি গাইছিলেন। বলা প্রয়োজন, এ পুকুরটিও বিশাল প্রাচীরে ঘেরা।
প্রাসাদের প্রবেশমুখে বোর্ডে টানানো তথ্যমতে, খ্রিস্টীয় উনিশ শতকে ইমারতগুলো ঔপনিবেশিক স্থাপত্যিক গঠন কৌশলে নির্মিত। বালিয়াটি জমিদারদের পূর্বপুরুষ গোবিন্দ রাম সাহা ছিলেন একজন ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী। তার পরবর্তী বংশধররা এসব ইমারতের প্রতিষ্ঠাতা। এরা হলেন যথাক্রমেÑ দাধী রাম, পণ্ডিত রাম, আনন্দ রাম ও গোলাম রাম। এদের বংশধররা বালিয়াটির ভবনগুলো ছাড়াও এ অঞ্চলে এবং রাজধানী ঢাকায় বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এদেরই বংশধর বাবু কিলোরী লাল রায়ের নির্মাণ করা। বোর্ডের লেখা তথ্যগুলো পড়ে জমিদারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পারেন, তাদের টাকা-পয়সায় ঢাকায় বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয়, মন্দির হয়েছে। এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ জমিদার বংশধরদের প্রতিষ্ঠা করা। খুব আগ্রহ হচ্ছিল জানতে, এ জমিদারদের বংশধরদের কে কে জীবিত আছেন এখন? তাদের পেশা কী? তারা কি এখনও আগের মতোই জৌলুসপূর্ণ জীবনের অধিকারী? নাকি আমাদের মতো সাধারণ, অতি সাধারণ। নাকি অবলম্বন হারিয়ে নিঃস্ব, অসহায়! মানবেতর চোখে দেখছেন তাদের ভৃত্যদের রাজত্ব।
ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে সাহা বংশপদের এক হিন্দু জমিদার ছিলেন। তাদের বাড়িটি এমন প্রাচীর ঘেরা ছিল। ’৪৭-এ ভারত বিভক্ত হওয়ার পর তাদের অনেকেই এ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ রয়ে গেছেন এদেশেই। তাদের জমিগুলো হাতছাড়া হয়ে গেছে, মানে সবই বেদখল। তাদের জমিতে অন্যরা বসবাস করছে এখন।
প্রাসাদের প্রাচীরে চারটি প্রবেশমুখ। প্রবেশমুখে উঁচু প্রাচীরের ওপর চারটি সিংহ। জমিদারদের প্রতাপ শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হয়ে আছে গর্জনভঙ্গিমায়। আগে জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটার সময় এ কারণেই কি ভয় পেত? সিংহগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে এখনি ধেয়ে আসবে? জমিদারদের পরিবারের সন্তানদের কেউ যদি আসেন এখানে, তাদেরও কি এমন মনে হবে?

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে