ট্রাম্পের মাথায় পাখির বাসা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক টুইট করেই চলেছেন। এতো এতো টুইটের কারণে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ট্রাম্পের টুইট বিশ্ব সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘প্রজেক্ট সিন্ডেকেট‘এর কভারে ট্রাম্পের একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্টের মাথা থেকে বের হচ্ছে অগণিত নীল রঙের পাখি (টুইটারের লোগো)। মানে ট্রাম্পের মাথায় পাখির (টুইটার) বাসা।

শুধুমাত্র ট্রাম্পের টুইটের কারণে বিশ্বে পারমাণবিক যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে টুইটারে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের বিবাদ। শহিদ জাভেদ বুরকি নামের একজন বিশ্লেষক দাবি করেছেন, টুইটারে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের চলমান অনাকাঙ্খিত বিবাদ অবশ্যই বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। এর কারণে দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপাচ্যের মধ্যে সংকট বেড়ে যেতে পারে।

সংবাদমাধ্যম দি নিউ রিপাবলিকের এক সাংবাদিক বলেন, উত্তর কোরিয়া সংকট নিয়ে ট্রাম্প যেভাবে মন্তব্য করেন তাতে তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি ট্রাম্পকে নিয়ে ‘পাগলামির সম্রাট’ শিরোনামে প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে নিজের মতামত লিখেছেন। আর সেখানে ট্রাম্পকে ব্যক্তিত্বে গাম্ভীর্য আনার পরামর্শ দেন।

এদিকে রাজ প্রসাদ এবং পিটার ব্রুগেন নামের দুজন মনোবিদ ট্রাম্পের টুইটার ঝড় নিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প হয়তো নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যই এত টুইট করেন। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এটাকে এক ধরনের পোকা উল্লেখ করেছেন তারা বলেন, ট্রাম্প যদি টুইটারে গালভরা এসব জটিল এবং অসম্পূর্ণ বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করেন তাহলে হয়তো তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

ট্রাম্পের টুইট করার দুর্দান্ত ক্ষমতা নিয়ে অপর এক বিশ্লেষক প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লিখেছেন, ট্রাম্প সকল মানুষের কথা শোনার জন্য কান খাড়া করে থাকেন। বিশ্বের সকল প্রান্তের ছোট-বড় সব সমস্যার সমাধান টুইটারে করতে চান ট্রাম্প। আর এতে ট্রাম্প বিশ্ব সংকট বাড়িয়ে তুলছে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা নিয়ে একের পর এক টুইট করেছেন। এছাড়া তার সরকার ব্যবস্থা, সরকার পরিচালনার সক্ষমতা, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, ইরান সংকট নিয়ে টুইট বিশ্ব সংবাদের একটা বড় রসদে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রাম্প সমালোচিত হয়েছেন তো তিনি তার দিকে পাল্টা টুইটারের তীর ছুড়েছেন। পাকিস্তান-ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে করা ট্রাম্পের টুইট এখনো গণমাধ্যমে তাজা। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের মাথা টুইট পাখির বাসা একথা বলাই যায়।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে