বাবা জেলে, মা অন্যের স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ঈদুল আজহা। মুসলমানদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আত্মীয়-স্বজনরা একত্রিত হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চায়। এজন্য শত কষ্ট সয়েও ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে গ্রামে ফেরে শহুরে চাকরিজীবীরা।

ঈদ মানে আনন্দ। আর এ আনন্দ শিশুদের কাছেই সব চেয়ে বেশি। বাবা-মায়ের আদরে ঈদের আনন্দ বুকে নিয়ে শিশুরা ছুটে বেড়ায় এপাড়া সেপাড়া। খেলবে, খাবে, ঘুরবে ফিরবে এটেইতো ঈদ।

কিন্তু মেহেরপুরের শিশু রাজের (৬) ঈদ কেমন কাটলো? ঈদের দিনে সে একবারেই একা। মা-বাবা তার কাছে নেই। বড় অবহেলাময় জীবন তার। ঈদুল ফিতরের জামা-প্যান্ট এই ঈদেও পরেছে সে। তবে মনের গভীরে ভীষণ কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে এতটুকু শিশু।

নতুন জামা-প্যান্ট পরে আর সব শিশুরা আনন্দ করছে, খেলছে, ঘুরছে-ফিরছে। আর অসহায়ের মত তাদের পিছে পিছেই ঘুরছে রাজ। অন্যদের মত স্বাভাবিক হতে পারছে না। কাকে বোঝাবে তার মনোকষ্ট? কে তাকে বুঝবে? অবহেলায়ই হয়ত বেড়ে উঠতে হবে তাকে।

রাজের জীবনের এই ট্রাজেডির কারণ কী? শোনা যাক তাহলে, রাজ বর্তমানে তার দাদির কাছে আছে। মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড-কাজি অফিসপাড়ার রাজের বাবা ইমন একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ। সম্প্রতি পুলিশ তাকে মাদকসহ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬ মাসের জেল দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় কয়েকজন সমাজ সেবক জানান, রাজের বাবা মাদকাসক্ত। কোনো কাজকর্ম করত না। একরকম বাধ্য হয়েই তার স্ত্রী রিতা পরের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করতেন। নেশার টাকা যোগাড় করতে ইমন স্ত্রী রিতার শাড়ি, সংসারের হাড়ি পাতিল পর্যন্ত বিক্রি করে দিত। বাধা দিলে তার উপর চলত অমানুষিক নির্যাতন।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রিতা এক সময় স্বামীর ঘর ছাড়ে। অল্প বয়স তার। তাই একমাত্র ছেলে রাজকে সাথে না নিয়ে অন্যের সংসারে উঠেছেন তিনি। মাদকের কারণে এভাবে অনেকেরই সংসার ভাঙছে। বাবা-মা থাকতেও এতিম তারা। ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজের মতো মেহেরপুরের বহু শিশু।

বাবা জেলে, আর মা অন্যের ঘরে। তাইতো রাজ বড় একা। রাজ জানায়, বাবা জেলে। মা খোঁজ নেয়নি। ঈদের জামা কিনে দেয়নি কেউ। সে এখন দাদী নেগেরার কাছে থাকে। তার দাদা আব্দুল কুদ্দুস নিজেও একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি।

স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুরুল কবীর রিপন বলেন, ‘অনাদরে বেড়ে উঠছে এসব শিশুরা। এদেরকে এভাবে রেখে দিলে ভবিষ্যতে এরাও মাদক সেবন করবে। কিংবা অনাদরে বেড়ে ওঠা এসব শিশু অন্ধকার জগতে পা বাড়াবে। তাই এদের মতো শিশুদের সরকারি শিশু পরিবার কিংবা হেফজখানায় ভর্তি করা উত্তম হবে। পাশাপাশি সমাজকে মাদক মুক্ত করা খুবই জরুরি।’ রাইজিংবিডি

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে