বার্ষিক ক্ষতি তিন হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ মুহূর্তে আসিয়ানভুক্ত দেশটির সঙ্গে এফটিএ করা হলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আমদানি রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ট্যারিফ কমিশন থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামীকাল বুধবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক হবে। বৈঠকে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি এফটিএ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইবে মালয়েশিয়া। এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে মালয়েশিয়া অনেক দিন ধরেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। আমরা চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ কীভাবে সংরক্ষণ হয় সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। বাংলাদেশের সঙ্গে এর আগে কোনো দেশের এফটিএ হয়নি। এ ছাড়া এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করা একটু সময়সাপেক্ষ বিষয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ বিষয়গুলো আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।’ কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়া শুধু পণ্যবাণিজ্যের ক্ষেত্রে এফটিএ করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ রপ্তানির তুলনায় দেশটি থেকে আমদানি বেশি করায় এতে কোনো লাভ হবে না। এ কারণে বাংলাদেশ চাইছে পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও বাণিজ্য উন্মুক্ত করতে। অর্থাৎ পণ্যবাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতে বিনিয়োগ উদারীকরণের মাধ্যমে যদি জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলেই বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এফটিএর আওতায় সরাসরি জনশক্তি রপ্তানি অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। সে কারণে সেবা খাতে বিনিয়োগ উন্মুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে। সেবা খাত উন্মুক্ত হলেই জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে ট্যারিফ কমিশন বলছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হবে। এফটিএ অনুসারে, বাংলাদেশি পণ্য যেমন শুল্কমুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় যাবে, তেমনি মালয়েশিয়ার পণ্যও বাংলাদেশে প্রবেশ করবে কোনো শুল্ক না দিয়েই। এতে আমদানি শুল্ক বাবদ আয় কমবে। ট্যারিফ কমিশন হিসাব করে দেখেছে, এ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে এফটিএ হলে আমদানি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম আয়করসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কর বাবদ বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হারাবে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য-ঘাটতি থাকার কারণেই এই রাজস্ব ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। উপরন্তু মুক্ত বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশের বাজারে অবাধে ঢুকবে মালয়েশিয়ার পণ্য। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশীয় শিল্প।

দুই দেশের বাণিজ্য-ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ৪৯৪টি ট্যারিফ লাইনে ১৯টি পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা চায়। তবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে ১৯৭টি ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিচ্ছে, যার ফলে মাত্র ৯টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কসুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে, গত অর্থবছর বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২১১ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করলেও দেশটি থেকে আমদানি করেছে প্রায় ১ হাজার ২৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। বাণিজ্য-ঘাটতির পরিমান প্রায় ৮১৬ ডলার। জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে ২০১২ সালে বাংলাদেশকে এফটিএ প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালয়েশিয়া সফরের সময়ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন হাজি আবদুল রাজাক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আহ্বান জানান। এ সময় চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই এফটিএ ইস্যুতে তাগাদা দিয়ে আসছে দেশটি। বাংলাদেশ প্রতিদিন

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে