বিদেশের হাটে শ্রমিক বিক্রি!

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : ইরাকে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অসাধু চক্রের সদস্যরা বিদেশের হাটে বিক্রি করে দিচ্ছে কর্মীদের। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ইরাকে কর্মী পাঠানোর তৎপরতা চালাচ্ছে কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি। ইতিমধ্যে ২০০০ কর্মী পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মী পাঠাতে তৎপরতা চালাচ্ছে বিতর্কীত রিক্রুটিং এজেন্সি। এরমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক পাঠানোর নামে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালে কাতারে পাঠানোর নামে ১৮০ জন বাংলাদেশীকে ইরাকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিলো ক্যারিয়ার ওভারসিস নামক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। ওই সময় যশোরের প্রকৌশলী মো. সিদ্দিক অভিযোগ করেছিলেন, ১৮০ বাংলাদেশীকে ইরাকের নাজাফ শহরে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে মারধর করা হতো। অনেক নারীদের উপর যৌন নির্যাতনও চালাতো। কাউকে ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। ইরাকের বন্দীদশা থেকে পালিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশীদের সহায়তায় দেশে ফেরেন মো. সিদ্দিক। এরকম নানা অভিযোগে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়।

বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানকে আবারও ইরাকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরকম অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা বিএমইটিতে নিষ্পত্তি না হলেও মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ইরাকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেন জানান, কোনো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেয়া হবে না। ক্যারিয়ার ওভারসিসের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগকারীরা অভিযোগ করলেও এক পর্যায়ে তাদের তৎপরতা কমে যায়। যে কারণে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে