বিদেশে যাচ্ছে লাতিরাজ ও বিলাসী

মতিনুজ্জামান মিটু : বিদেশে যাচ্ছে লতিরাজ ও বিলাসী নামের দুই জাতের বাংলাদেশী কচু। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট (বারি) এর কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. তপন কুমার পাল একথা বলেন।

তিনি বলেন, বারি এযাবত গলা চুলকানিমুক্ত, সুস্বাদু ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য তিনটিসহ মুখি ও পানি কচুর ৮টি জাত অবমুক্ত করেছে। জাতগুলো’র মধ্যে রয়েছে বারি মুখি কচু-১ ও বারি মুখি কচু-২ এবং বারি পানি কচু-১( লতিরাজ), বারি পানি কচু-২, বারি পানি কচু-৩, বারি পানি কচু-৪, বারি পানি কচু-৫ এবং বারি পানি কচু-৬।

বাংলাদেশের সব জায়গায় খরিপ মৌসুমে চাষের উপযোগি বিলাসী নামের বারি মুখী কচু-১ ও লতিরাজ নামের বারি পানি কচু-১ খেতে খুবই সুস্বাদু ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। সবুজ রং এর বিলাসী মুখি কচুর গাছ খাড়া, মাঝারি ও লম্বা। মুখী খুব মসৃণ ও ডিম্বাকৃতির হয়। সিদ্ধ মুখী নরম ও সুস্বাদু। সিদ্ধ করলে মুখী সমানভাবে সিদ্ধ হয়ে গলে যায়। চাষের পর ২১০ দিন থেকে ২৭০ দিনে এই মুখি কচু ঘরে তোলা বা বাজোরে নেয়া যায়। হেক্টরে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিক টন ফলে এই কচু। লতিরাজ নামের বারি পানি কচু-১ এর লতি লম্বায় ৯০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। সবুজ রং এর এই লতি সিদ্ধ করলে সমানভাবে গলে যায় এবং চুলকানিমুক্ত হয়। লতিরাজ হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন লতি এবং ১৮ থেকে ২২ রাইজোম দিয়ে থাকে। ২৫০ থেকে ৩০০ দিনে লতি ও রাইজোম ঘরে তোলা যায়।

চলতি ২০১৭ সালে বারি পানি কচু-৬ জাতটি অবমুক্ত করা হয়। জাতটি গলা চুলকানি মুক্ত এবং সমানভাবে সিদ্ধ হয়। হেক্টরপ্রতি লতির ফলন ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন এবং রাইজোমের ফলন হেক্টরপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ মেট্রিক টন। দেশে বছরে গড়ে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ২লাখ ৫০হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের কচু উৎপাদন হয়।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে