মিত্র যখন শত্রু

ত্রিদেশীয় সিরিজের পর্দা ওঠার সময় ঘনিয়ে আসছে। ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে তিন জাতির ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞ। সিরিজকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে তিন প্রতিযোগী দেশই। ১২ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের একাংশের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। আর ১৬ সদস্যের লঙ্কান দল ঢাকায় পৌঁছাবে ১৩ জানুয়ারি।

লঙ্কান এবং জিম্বাবুয়ে দলের থেকে এই দুই দলের কোচ হাথুরুসিংহে এবং হিথ স্ট্রিকের আলোচনা ঘুরে ফিরে বারবার সামনে চলে আসছে । কেনোনা এই দুজনই যে বাংলা দেশের একেবারে ঘরের লোক ছিলেন এতদিন। ২০১৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে নব জাগরণের সূচনা হয়, খুব কাছ থেকে তাঁর সাক্ষী ছিলেন যে এই দুজনও। বলা যায় টাইগারদের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় অবদান ছিল সাবেক বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক এবং প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের। এই দুই মেধাবী কোচের হাত ধরে তামিম, সাকিব, মাশরাফি, মুশফিকরা আরো পরিণত হয়ে উঠেন। ধীরে ধীরে শক্তিশালী দলে রুপ নেয় বাংলাদেশ।

কিন্তু ২০১৮ সালের নতুন ক্যালেন্ডারের সঙ্গে নতুন হিসাব চলে এসেছে ক্রিকেটের খাতায়। পুরনো মিত্র যে এবার ‘শত্রু’ বেসে ফিরে আসছে টাইগারদের সামনে। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ হিসেবে আসবেন স্ট্রিক ও হাথুরু। এ যেন ঘরের শত্রু বিভীষণ! বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান রয়েছে এই দুই কোচের। তাই এই দুই কোচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা সাজাবে সিরিজের অন্য দুই দল।

বাংলাদেশের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা খুব ভালো ভাবে এই দুজনের জানা থাকায় সতর্ক থাকতে হবে টাইগারদের। একইভাবে হিথ স্ট্রিক ও হাথুরুকে নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা থাকা উচিত মাশরাফি-মুশফিকদের। কেনোনা সম্প্রতি মাঠের পারফরম্যান্সে ও শক্তির বিচারে সিরিজে এগিয়ে থাকবে টাইগাররা। এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নয়, মূল আঘাতটা আসতে পারে তাঁদের দুই কোচের মাথা থেকে।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে