হারিয়ে যাচ্ছে ‘বাবুই পাখি’র শৈল্পিক

 

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।’ রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক সেই বাবুই পাখি এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। তাই বাবুই পাখির বাসাও আজ আর অহরহ চোখে পড়ে না। সাধারণত তালগাছে খড়কুটো, লতাপাতা দিয়ে বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখিরা। তাদের বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত। তাই প্রবল ঝড়ে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় সঙ্গী খুঁজতে। সঙ্গী পছন্দ হলে সাথী বানানোর জন্য কতো কিছুই না করে। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য জলভরা ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে উড়ে বেড়ায় এক ডাল থেকে আরেক ডালে। এরপর উঁচু গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক কাজ হলে কাক্সিক্ষত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। তা না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরি শুরু করে। অর্ধেক বাসা বাঁধতে সময় লাগে চার-ছয় দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে চারদিন। কেননা তখন মহাআনন্দে বিরামহীনভাবে কাজ করে বাবুই। স্ত্রী বাবুইর প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মতভাবে বাসা তৈরি করে। পুরুষ বাবুই কেবল বাসা বাঁধে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক সঙ্গী। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি পর্যন্ত বাসা বুনতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর করতে পারে ছয় সঙ্গীর সঙ্গে। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর বাচ্চা বাসা ছেড়ে প্রথম উড়ে যায় জন্মের তিন সপ্তাহের মধ্যে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। দুধ-ধান সংগ্রহ করে এনে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। এরা তালগাছেই বাসা বাঁধে বেশি। ইদানীং তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অন্যান্য গাছেও তাদের বাসা বাঁধতে দেখা যায়।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে