ইলিশ

ক্রিং ক্রিং…

ভরাট কণ্ঠে; ‘হ্যালো, চৌধুরী বলছি…’।

‘চউদ্রি সাহেব, আপনার নান্নিসি মুন্নিসি নাতিকে আমরা গতকালকে কিডন্যাপ করেছি…, মুহাহাহা’

চৌধুরী সাহেব : কী সব যা-তা বলছ? সালমা, ও সালমা…, দেখো তো আবুটা কই?

সালমা ভাবি : ও মাগো…, আবু তো রুমে নাই…! সঙ্গে তার এক প্যাকেট ডায়াপার আর তার প্রিয় চুষনিটাও নাই!

(সালমা ভাবি সঙ্গে সঙ্গে মূর্ছা গেলেন।)

চৌধুরী সাহেব : কী চাস তোরা? বাড়ি…গাড়ি…হীরা…মণি…মুক্তা…জহরত—কী চাস?

দুষ্টুজন : আপনার ডিপফ্রিজে ৯টি ইলিশ আছে…, ওগুলো প্যাকেটে ভরে নিয়ে আসেন…কুইক!

এবার চৌধুরী সাহেব মূর্ছা গেলেন।

মূর্ছা যাওয়ার মতোই অবস্থা। সেদিন একজন ফোন দিয়েছে, ‘বস, আমাদের নতুন বৈশাখী অফার এসেছে…ফ্ল্যাট কিনলেই ইলিশ ফ্রি।’

‘ও রে বাপ্প…বলেন কী!’

‘জি, স্যার।’

‘কোথাকার ইলিশ?’

‘পদ্মার…। আমাদের দক্ষিণের জানালাওয়ালা অ্যাপার্টমেন্টও খালি আছে স্যার।’

‘মাছের সাইজ কেমন? জাটকা না তো?’

‘না, বড় মাছ…, তবে ছোট অ্যাপার্টমেন্টও আছে…। সেখানে আবার সারভেন্ট রুমও আছে।’

‘মাছ তাজা? নাকি ফ্রিজের?’

‘ধুত্তুরি মিয়া…আপনে তো আমার কথাই শুনছেন না।’

‘শুনছি তো…আপনি না বললেন মাছ কিনলে অ্যাপার্টমেন্ট ফ্রি?’

‘হালায় কয় কী!’

…আসলেই আমার ‘হালায় কয় কী’ অবস্থা।

সেদিন মাছের দোকানে গিয়ে ফিসফিস করে বললাম, ‘কোরবানি ঈদের গরুর মতো করে ইলিশ মাছ ভাগে দেন আপনারা?’

তিনি বঁটির দিকে হাত বাড়াতে বাড়াতে বললেন, ‘হালায় কয় কী?’

বাসায় আসতে আসতে দেখি, বউয়ের ছোটভাই মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েছে, ‘দুলাভাই, আমরা বন্ধুরা বৈশাখের প্রথম প্রহরে আপনার বাসায় হিলশা খেতে আসছি…টাটা, সি ইয়া।’

মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভাবছি, ‘হালায় কয় কী!’

♦আরিফ আর হোসাইন

 

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে