‘এক কেন্দ্রীক শ্রম রপ্তানি প্রবণতা শ্রমবাজারে বিপর্যয়ের কারণ’

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার: রামরুর চেয়ারম্যান ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেছেন বাংলাদেশিদের বিদেশ গমনের প্রবণতা সবসময় এক কেন্দ্রীক। এ বছরও শ্রমিকদের অর্ধেকের বেশি লোক গেছে সৌদি আরবে। তবে আমাদের শ্রমিকদের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাঠানো গেলে কোন দেশ বিপদে পড়লেও আমাদের শ্রম বাজারে বিপর্যয় ঘটতো না।

২০১৭ সালটি অভিবাসীদের জন্য কেমন ছিল এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ‘রামরু’। সরকারি হিসাবে এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৭ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গেছে। তবে বেসরকারি সংস্থা গুলোর হিসাবে এর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ইউরোপে অভিবাসী হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া নারী শ্রমিকদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাও শুনা গেছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য ২০১৭ সালটি কেমন ছিল এ নিয়ে তাসনীম সিদ্দিকী বলেছেন যদি আমরা অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ে বিবেচনা করি তাহলে এ বছরটি খুবই ভাল গেছে কারণ প্রয় ১০ লক্ষের মত অভিবাসী বিভিন্ন দেশে গেছে। এর মধ্যে ৪ লাখের উপরে অভিবাসী গেছে সৌদি আরবে। আরো একটি ভাল দিক হল পুরুষের তুলনায় নারী অভিবাসীদের সংখ্যা এ বছর বেশি ছিল।

তিনি বলেন অনেকেই বিদেশে গমন করতে খুব আগ্রহী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও শ্রম রপ্তানি খাতে উন্নয়নের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাই সরকারের উচিত ফিরে এসে যাতে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে সেভাবে তাদের গড়ে তোলা।

তাসনীম আরো বলেন আমরা দেখেছি অধিকাংশ লোক অভিবাসী হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে যেতে পারেনি এবং সে টাকাও ফেরত পায়নি। তিনি বলেন আগে নারীদের ঘরের ভিতরে যেমন নির্যাতন হতো এ বছর তা হয়নি তা বলা যাবে না। তবে এবার আগের চেয়ে অগ্রগতি হয়েছে। নারীদের জন্য সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে। এটি অব্যাহত থাকলে নারীর প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতন বন্ধ হবে।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে