কাক থেকে কাউয়া

সানজিদা ফেরদৌস:এই যাদুর শহরে চলতে ফিরতে অনেক ধরনের অনিরাপত্তার মধ্যে উদ্ভট এক অনিরাপত্তার চিন্তা সবার মাঝে! এই বোধহয় মাথার উপর বায়স মহাসয় প্রকৃতির আদিম ডাকে সাড়া দিয়ে দেন।

শহরের সবথেকে পরিচিত পাখি কাক। যদিও কাকের বনেদি নাম – বায়স। সংস্কৃতিতে বায়স মানে `যার বয়স বোঝা যায় না`। আবার অন্যভাবে সংস্কৃততে `কৈ` বা `কা` শব্দের সঙ্গে `কন্`প্রত্যয় যোগে তৈরি হয়েছে কাক শব্দটি। যার অর্থ হচ্ছে যে কৈ কৈ বা কা কা করে।

জীবনানন্দ তো ভোরের কাক হয়ে বাংলায় ফিরতে চেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ পানির স্বচ্ছতার উপমায় বলেন কাকের চোখের মত স্বচ্ছ।

তবে কবিতায় কাক নিয়ে আদিখ্যেতা থাকলেও বাস্তবে কাকের বেশ বদনাম। চোখ বন্ধ করে যেখানে সেখানে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে, তার কর্কশ ডাকেও বেশ বিরক্ত হয় নগরবাসী। নোংরা জিনিস খাওয়া, ছাদ থেকে ক্লিপ চুরি করে নেওয়া তো আছেই।

সাধারণত অন্য পাখিরা যেখানে মানুষ দেখলেই ফুড়ুৎ, সেখানে কাক যেনো চোখে চোখ রেখে এই শহরে তার অধিকার জানান দেয়। কেউ কেউ তো শুধু বিরক্ত নয়, কাককে ভীষণ ভাবে ভয়ও পান। অনেকেই বলেন, তার প্রতিটি দুঃস্বপ্নে উপস্থিত থাকে এই পাখি।

শহরের প্রতি তার অধিকার জানান দেবেই বা না কেন? শহরের নোংরা আবর্জনা পরিস্কার করার দায়টা তো সে তার কাঁধেই তুলে নিয়েছে। তবে সে জন্য বেশ বকাঝকাও শুনতে হয় তাকে। কাক থেকে তাই মাঝে মাঝেই তার নাম হয়ে যায় ‘কাউয়া’। অনেকে তো তাকে পাখি হিসেবেই স্বীকৃতি দিতেও নারাজ।

মজার ব্যাপার হলো এই কাক কিংবা কাউয়া চরিত্রগত দিক থেকে বেশ সৎ প্রেমিক। সঙ্গি/সঙ্গিনী মারা গেলেও এরা নতুন করে আর সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে সম্পর্কে জড়ায় না। আর সহানুভুতিশীল বলেও কিন্তু কাকের বেশ সুনাম আছে। কোকিলের বাচ্চাকে আগলে বড় করে তোলার কথা তো আমরা সবাই জানি।

তবে কাকের প্রতি মানুষের এই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য কাকের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ মানুষ এখন পর্যন্ত যে সব প্রাণীকে ভালবেসেছে তারা সবই বিলুপ্ত প্রায়। তাই তাচ্ছিল্য নিয়ে বেঁচে থাকুক কাক। যান্ত্রিক শহরটাতে তবু কিছু প্রাণ থাকুক।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে