কাগজের নৌকা

ইমরান হোসাইন ইমু:

রিশাদ ক্লাস ফোরে পড়ে। তার একটি ছোট বোন আছে, নাম স্নিগ্ধা। স্নিগ্ধা ক্লাস টুয়ে পড়ে। ভাইবোন একই স্কুলে পড়ে। একসাথে বাবার হাত ধরে স্কুলে যায়, ঘুরতে গেলেও তারা একসাথে, খায়ও একসাথে, কোন ঝগড়া নেই। একদিন বাবা বললেন, তিনি রিশাদ আর স্নিগ্ধাকে নিয়ে নদীতে ঘুরতে যাবেন। ভাইবোন তো বেজায় খুশি।
নদীর অপরূপ দৃশ্য দেখে রিশাদ মুগ্ধ। রিশাদ অবাক হয়ে দেখল নদীতে অনেক নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ, জাহাজ দুলে দুলে যাচ্ছে। হঠাৎ রিশাদ পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল। আর ভাবল, এটা দিয়ে নৌকা বানিয়ে নদীতে ছেড়ে দেবে। যা ভাবা তাই কাজ। রিশাদ একটা নৌকা বানাল আর তা নদীতে ছেড়ে দিল। বাবা আর স্নিগ্ধা বিষয়টা লক্ষ্য করল না। রিশাদের কাগজের নৌকাটি দুলে দুলে অনেক দূর যাচ্ছে। নৌকা যত এগোয়, রিশাদের মনের আনন্দ ততই বেড়ে যায়। বিশাল নদীতে সবাই দেখছে জাহাজ ও স্টিমারগুলো। কিন্তু রিশাদ মুগ্ধ হয়ে দেখছে তার কাগজের নৌকাটা। বিশাল নদীতে ছোট্ট রিশাদের ছোট্ট নৌকাটি দারুণভাবে এগিয়ে চলছে। আর মনের আনন্দে হাততালি দিচ্ছে, লাফাচ্ছে। হঠাৎ একটি স্টিমার এসে রিশাদের কাগজের নৌকাটিকে ডুবিয়ে দিল। ছোট্ট রিশাদের মন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তার দারুণ রাগ হলো স্টিমারটার ওপর। ইচ্ছে করছে স্টিমারটাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে। কিছুক্ষণ সে মন খারাপ করে বসেছিল। এরপর তার চোখ পড়ল একটা বিশাল জাহাজের ওপর। সে মনে মনে ভাবল, ‘আমি যদি এই জাহাজের চালক হই, তাহলে তো কোনো স্টিমারই আমার জাহাজকে এভাবে ডুবিয়ে দিতে পারবে না। সেই থেকে নাবিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রিশাদ। আর মনে মনে সঙ্কল্প করল, ‘আমি নাবিক হবোই’।
সতের বছর পর। রিশাদ এখন একজন নাবিক। তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মানুষ কোনো কিছুর স্বপ্ন দেখে যদি সেই অনুসারে পরিশ্রম করে তবে তার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ হবে। রিশাদ নাবিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। তাই তো আজ সে একজন বড় নাবিক হতে পেরেছে। জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজন স্বপ্ন, উদ্যম আর পরিশ্রম।
একদিন রিশাদ জাহাজ চালানোর সময় পাড়ে লক্ষ্য করল একটি বাচ্চা ছেলে একটি কাগজের নৌকা বানিয়ে নদীতে ছেড়ে দিচ্ছে। দৃশ্যটা রিশাদ অবাক হয়ে দেখল আর মনে মনে হাসল।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে