গোসল ছাড়া ৮০ বছর

কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৬০ বছর। এবং এই সময়ে একবারের জন্যও তার গায়ে এক ফোঁটাও জল পড়েনি।

অবাক করা ঘটনাই বটে। তবে ‘দ্য তেহরান টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুয়ায়ী, ৮০ বছরের আমু হাজি-র এটাই সার সত্য। জল-সাবান গায়ে দেওয়াতে তাঁরঘোরতর আপত্তি যে রয়েছে, শুধু তাই নয়। ‘স্নান’ শব্দটি শুনলেই হাজির কেমন পাগল পাগল লাগে।

দক্ষিণ ইরানের ফারস জেলার একটি পরিত্যক্ত গ্রাম দেজগা। সেখানেই মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান বৃদ্ধ হাজি। এত বছরের অপরিষ্কার শরীরে যে মাটির আস্তরণ জমেছে, তাতে মাঝেমাঝে তাঁকে প্রকৃতির উপরে পড়ে থাকা পাথর বলে মনে হয়। এমন ভাবেই হাজিকে বর্ণনা করেছেন আশপাশের গ্রামীণ মানুষজন।

নিজের বলতে কেউই নেই আমু হাজির। কানাঘুষো সোনা যায়, যুবক বয়সে প্রেমে আঘাত পেয়েই নাকি এই জীবন বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

আমু হাজির থাকা-খাওয়া বড় অদ্ভুত। শজারুর পচা মাংস খেয়ে পেট ভরান তিনি। আর প্রকৃতির কোলই তাঁর বিছানা। গ্রামের মানুষ ইট দিয়ে একটি ঘরের মত বানিয়ে দিয়েছে তার জন্য। ইচ্ছে হলে বুড়ো হাজি সেখানেও থাকেন মাঝেমধ্যে।

বেড়ে যাওয়া চুল-দাড়ি কাটার কোনও প্রশ্নই নেই আমু হাজির। যখন মনে হয় চুল-দাড়ি বেড়ে গিয়েছে, তখন আগুনে পুড়িয়ে দেন।

বিশ্বের সব থেকে ‘অপরিষ্কার’ মানুষের খেতাব এখন আমু হাজির কাছেই। এর আগে সেই খেতাবে জয় করেছিলেন ৬৬ বছরের এক ভারতীয়, কৈলাস সিংহ। ৩৮ বছর গায়ে জল-সাবান দেননি সিংহমশায়।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে