জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে কুরআন যা বলে

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ। ইসলাম এই বিষয়টিকে এতোটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, ফরজ বিধান হিসেবে হুকুম প্রদান করা হয়েছে। কারণ জ্ঞান বা ইলম এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে মানুষের মাঝে তৈরি হওয়া অন্ধকার দূরীভূত হয়। তাই জ্ঞান অর্জন ও চর্চাকে ইসলাম এতোটা গুরুত্ব প্রদান করেছে। জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য প্রথমেই যে বিষঢয়টি জানা প্রয়োজন সেটা হলো- জ্ঞান অর্জন বিষয়ে পবিত্র কোরআনের কোন আয়াতে কী আলোচনা এসেছে। চলনু তাহলে আমরা আজ এই বিষয়টি জানি।

জ্ঞান অর্জন বা চর্চা বিষয়ে পবিত্র কোরআনে যে সব শব্দ ব্যবহার হয়েছে তার প্রথম শব্দটি হলো- ইকরা। চলুন তাহলে দেখি ইকরা শব্দ ব্যবহারে পবিত্র কোরআনে জ্ঞান অর্জন বা চর্চা নিয়ে কী আলোচনা ইরশাদ হয়েছে-

১. পড়, নিজের আমলনামা, আজ নিজের হিসেব করার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট। [সূরা বনী ইসরাঈল, ১৪]

২. পড় (হে নবী ), তোমার রবের নামে। [সূরা আলাক, ০১]

৩. পড়, এবং তোমার রব বড় মেহেরবান। [সূরা আলাক, ০৩]

জ্ঞান অর্জন বা চর্চা বিষয়ে পবিত্র কোরআনে যে সব শব্দ ব্যবহার হয়েছে তার দ্বিতীয় শব্দটি হলো- ইলম। চলুন তাহলে দেখি ইলম শব্দ ব্যবহারে পবিত্র কোরআনে জ্ঞান অর্জন বা চর্চা নিয়ে কী আলোচনা ইরশাদ হয়েছে-

১. তোমরা যেসব বিষয়ের জ্ঞান রাখো সেগুলোর ব্যাপারে বেশ বিতর্ক করলে, এখন আবার সেগুলোর ব্যাপারে বিতর্ক করতে চললে কেন যেগুলোর কোন জ্ঞান তোমাদের নেই ? আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না। [সূরা আল ইমরান, ৬৬]

২. তার কাছে কী গায়েবের জ্ঞান আছে যে সে প্রকৃত ব্যাপারটা দেখতে পাচ্ছে? [সূরা আন নাজম, ৩৫]

৩. তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যার জন্য না তিনি কোনো প্রমাণ পত্র অবতীর্ণ করেছেন আর না তারা নিজেরাই তাদের ব্যাপারে কোনো জ্ঞান রাখে। এ জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। [সূরা আল হজ, ৭১]

৪. এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের বাপ-দাদারও ছিল না। তাদের মুখ থেকে বেরুনো একথা অত্যন্ত সাংঘাতিক ! তারা নিছক মিথ্যাই বলে। [সূরা কাহাব, ০৫]

৫. হে নবী, এদের বলে দাও, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ডেকে থাকো কখনো কী তাদের ব্যাপারে ভেবে দেখেছো? আমাকে একটু দেখাও তো পৃথিবীতে তারা কী সৃষ্টি করেছে কিংবা আসমানসমূহের সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনায় তাদের কী অংশ আছে। যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে ইতোপূর্বে প্রেরিত কোন কিতাব কিংবা জ্ঞানের কোন অবশিষ্টাংশ (এসব আকীদা-বিশ্বাসের সমর্থনে) তোমাদের কাছে থাকলে নিয়ে এসো। [সূরা আল আহক্বাফ, ০৪]

৬. আরো কিছু লোক এমন আছে যারা কোনো জ্ঞান পথ নির্দেশনা ও আলো বিকিরণকারী কিতাব ছাড়াই ঘাড় শক্ত করে। [সূরা হজ, ০৮]

৭. আমি মানুষকে নিজের পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু যদি তারা তোমার ওপর চাপ দেয় যে, তুমি এমন কোন (মা’বুদকে) আমার সাথে শরীক করো যাকে তুমি (আমার শরীক হিসেবে) জানো না, তাহলে তাদের আনুগত্য করো না। আমার দিকেই তোমাদের সবাইকে ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদের জানাবো তোমরা কী করছিলে। [সূরা আল আনকাবুত, ০৮]

৮. সেই সময়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই ফিরে যায় এবং সেসব ফল সম্পর্কেও তিনিই অবহিত যা সবে মাত্র তার কুঁড়ি থেকে বের হয়। তিনিই জানেন কোন্ মাদি গর্ভধারণ করেছে এবং কে বাচ্চা প্রসব করেছে। যে দিন তিনি এসব লোকদের ডেকে বলবেন, আমার সেই সব শরীকরা কোথায় ? তারা বলবেঃ আমরা তো বলেছি, আজ আমাদের কেউ-ই এ সাক্ষ্য দেবে না। [সূরা হা মীম আস সাজদা, ৪৭]

৯. অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা কেবলই বদ্ধমূল ধারণার অনুসরণ করছে। আর ধারণা কখনো জ্ঞানের প্রয়োজন পূরণে কোন কাজে আসতে পারে না। [সূরা নাজম, ২৮]

১০. তুমি কি কখনো সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো যে তার প্রবৃত্তির কামনা বাসনাকে খোদা বানিয়ে নিয়েছে আর জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে গোমরাহীর মধ্যে নিক্ষেপ করেছেন, তার দিলে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং চোখে আবরণ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে যে তাকে হিদায়াত দান করতে পারে? তোমরা কী কোন শিক্ষা গ্রহণ করো না? [সূরা জাসিয়াহ, ২৩]

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে