ফেসবুকে বৃষ্টি, দুর্ভোগ রাস্তায়

 নাজমা আক্তার : ঘুম থেকে উঠেই দেখলেন আকাশের মুখভার। একরাশ কালোমেঘের চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছে সুয্যি মামা। কিন্তু ব্যস্ততার এই যান্ত্রিকতায় সে উপায় নেই মানুষের। এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে মেঘের সাথে বাতাসের দাপাদাপি, ফেসবুক খুলে একটা স্ট্যাটাস “আহ সকালবেলার মেঘলা আকাশ আর হাতে এক কাপ চা, জীবন সুন্দর”। 

চায়ের কাপে চুমুক দিতেই বিষিয়ে উঠলো মুখ আর মন দুটোই। কারণ আপনার চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, আর মনে পড়ে গেছে, যেতে হবে অফিসে কিংবা আজ একটা টিউটোরিয়াল আছে ভার্সিটিতে।

ঢাকার এই যান্ত্রিকতায় একপশলা বৃষ্টি প্রশান্তি দেয় সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ধুলোময় বাতাসে কিছুক্ষণ প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিয়ে যেই না রাস্তায় বের হওয়া গেল, অমনি কাদা পানির আপ্যায়নে খুশিটা দুঃখে পরিণত হতে সময় নেয় না।  

যাদের অবশ্য কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই, তারা বেশ জাঁকিয়ে আয়েশ করে কাটিয়ে দিতে পারেন একটা বৃষ্টি ভেজা দিন। নির্বিঘ্নে তুলে দিতে পারেন আলসেমির হাতে। সাথে সেই আলসেমির বিলাসিতা সবার সাথে ভাগ করে নিতে আছে ফেসবুকসহ আরো অনেকগুলো সামাজিক মাধ্যম। কিন্তু তাদের সেই সকল বিলাসিতা দেখে রাস্তার ট্রাফিকে অর্ধভেজা হয়ে আটকে থাকা মানুষটা নিজের ভাগ্যকে নাকি বৃষ্টিকে দুষবেন সে হিসেব মেলাতে পারেন না।

বাসের ভিড়ে দাঁড়িয়ে কিংবা অনেক কষ্টে পাওয়া সিটে বসে দেওয়া স্ট্যাটাসে স্মৃতিকাতরতা “আহ বৃষ্টি, সেই শৈশবের স্কুলে যাওয়া আর কাদা জলে ফুটবল। মিসিং চাইল্ডহুড”। 

কিন্তু কেউ কেউ বাস্তবের মত ভার্চুয়ালেও ধার ধারেন না কোন কিছুর, বিরক্তির প্রকাশ ঘটায় এভাবে “বৃষ্টির খেতা পুড়ি”।
 
এই যাদুর শহরে বৃষ্টিই দেখায় সবচেয়ে আজব যাদু, এক দুই ফোঁটা কিংবা ঝুম বৃষ্টি যাই হোক না কেন, রাস্তা জুড়ে থাকবে অসহনীয় যানজট। 

তারপরও এই কাঠখোট্টা শহরের বুকে বৃষ্টি বড় কাঙ্ক্ষিত। সব যন্ত্রণা, ভোগান্তি আর ব্যস্ততার পরো দুপুরের খাবারে খিচুড়ি কিংবা বন্ধুদের সাথে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা’য়ে বেঁচে থাকে বৃষ্টি বিলাস। 

একটা ছোট ক্ষুদে বার্তায় ঠোঁটের কোন এক চিলতে হাসির সাথে রবিঠাকুরের গান “আজি ঝর ঝর মুখরো বাদল দিনে/জানি নে জানি নে কিছু তে কেন যে মন লাগে না… লাগে না…”।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে