‘বিএনপির নেতাদের সরকার কিনে ফেলেছে’

ডেস্ক রিপোর্ট  : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপিতে মতবিরোধ দেখা গেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা, এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের বদলে আইনি লড়াইকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং তৃণমূলের নেতারা চাইছেন এখনই চূড়ান্ত আন্দোলন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বেগম জিয়া কারান্তরীণ হলেই বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপি শুধু বিক্ষোভ ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। ওই কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা স্বেচ্ছা কারাবরণ করব।‘ কিন্তু দেখা যাচ্ছে শীর্ষ নেতারা নিজেদের বাঁচাতেই ব্যস্ত।

বিএনপির সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো অঙ্গ সংগঠন বড় আন্দোলনের কর্মসূচি চায় । একই মনোভাব তৃণমূলের। এসব অঙ্গ সংগঠনের একজন নেতা বলেছেন, হরতাল অবরোধ ছাড়াও অনেক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যেমন অনশন, মানববন্ধন, কারাগারের সামনে গণ অবস্থান ইত্যাদি। কিন্ত সিনিয়র নেতারা এসব আন্দোলনে আগ্রহী নন। বিএনপির চেয়ারপারসন গ্রেপ্তারের ৪৮ ঘণ্টা পর বিএনপিতে যে তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে তাতে খুশি না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা এটাকে দায়সারা কর্মসূচি বলছে। বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব মনে করেন দলের সিনিয়র নেতাদের সরকার কিনে ফেলেছে। ড. খন্দকার মোশারফ তাঁর দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করছেন বলে অভিযোগ আছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চান তাঁর বাড়ি ফেরত। একজন সিনিয়র নেতার ব্যাংক ঋণ মওকুফের টোপ ঝুলছে।

তরুণরা মনে করছেন, এ কারণেই বিএনপি নেতাদের হাত পা বাঁধা। এরা সরকারের সাজানো নির্বাচনের দিকে বিএনপিকে নিতে চায়। স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্যই এখনই বড় আন্দোলনের হঠাকারিতা চাননা। বরং তারা চান বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তরুণরা মনে করেন, বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগে বিএনপির সিনিয়রনেতাদের অনীহার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝ খান থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলো।

এজন্য তরুণরা এই আন্দোলনের বিকল্প পথ খুঁজছে। একটি সূত্র বলছে, তারেক বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন গুলোকে অবিলম্বে কর্মমুখী ঘোষণার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে, আন্দোলন প্রশ্নে বিএনপির মতদ্বৈততা প্রকাশ হয়েছে। বেগম জিয়ার কারাজীবন দীর্ঘায়িত হলে, এই মতদ্বৈততা বিএনপিকে ভাঙ্গনের পথে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা ইনসাইডার

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে