ভোগ-বিলাসের ভালোবাসা !

কিছুদিন আগে এক মেয়ে পুরুষের ওপর তার রাগের কথা জানাচ্ছিল । পুরুষ জাতির ওপর তার বেজায় ক্ষোভ । তার মতে, পুরুষ মানেই লম্পট, অসৎ । এক ছেলের সাথে তার আড়াই বছরের প্রেমের পর ছেলেটা তাকে ছেড়ে অন্যমুখো হয়েছে । ভেতর-বাহিরের সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার পরেও যে ছেলে বিশ্বাসঘাতকতা করলো তার ওপর প্রতিশোধ নেয়াটা কি মেয়েটার দায়িত্ব নয়-এটাই তার প্রশ্ন ছিলো ।

পরামর্শ কি হবে তা ভাবতে গিয়ে মারাত্মক দূর্ভাবনায় পড়লাম । যার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবী করছে, তার সাথে বাসন্তবিলাসের সময়ে মেয়েটা কি একবারও পুলক অনুভব করেনি ? ছেলেটা ভোগের আনন্দে আটখান হওয়ার কালে, মেয়েটা কি আনন্দে পাঁচখানও হয়নি ! তবে আবার প্রতিশোধের প্রশ্ন কেন !! সম্পর্কে জড়ালেই যাদের দেহ দান করতে হয় তাদের এমন পরিনতি হবে নাতো কি সতীর ক্ষতি হবে ?

তারপরও মেয়েটাকে বলা দরকার, তুমি প্রতিশোধ নাও । তবে ভেবে পাইনি, মেয়েটার প্রতিশোধের ঢঙটা কেমন হবে ? যেভাবে ছেলেটা মেয়েটাকে ভোগ করে ছেড়ে গেছে সেভাবে মেয়েটাও ছেলেটাকে ভোগ করে ছেড়ে দিয়ে প্রতিশোধ নেবে ? ভোগের ভোগ্যা হয়ে মেয়েটা কি মনে মনে বলবে, যাহ ! এবার হতাশায় মর !!

ভালোবাসা দিবস নিয়ে মোটেও শঙ্কা নাই । আমাদের বোন, কন্যাদের ওপর আস্থা আছে । অন্যায়, অনৈতিক কিংবা অবৈধ কোন কাজে তারা জড়াবে না বলেই বিশ্বাস । তারপরেও যদি কেউ ভুল পথে যায় তবে চোখের পানি আর মনের কষ্ট তাকেই বহন করতে হবে আমরণ । স্বীকার করতে বাঁধা নাই, বেশিরভাগ ছেলে ভোগের উম্মত্ততায় মত্ত, তবে মেয়েদের সন্তুষ্টির রাজি ছাড়া এসব সম্ভব নয় । এসব জেনেও যদি কোন মেয়ে শুদ্ধ প্রেমের অশুদ্ধ খেলায় মাতে তবে সেও হয়তো প্রতিশোধের কথা ভাববে । কিন্তু পরিনাম কি ? দেহ-মনের শুভ্রতা হারিয়ে নির্মম প্রতিশোধ নিলেই বা কি লাভ হবে ? ফিরে পাওয়া যাবে জীবনের একমাত্র অমূল্য সম্পদ ?

অন্যের নীতিকথা দেহের জোয়ার রোধ করতে পারেনা খুব একটা । এ প্রশ্নে বিবেকও মাঝে মাঝে নিষ্ক্রিয়তায় ভোগে । তবে লজ্জা মানুষকে ফিরিয়ে রাখতে পারে এসব অন্যায় থেকে । প্রশ্ন থাকে, আমাদের কতটুকু লজ্জা আছে ? পার্ক কিংবা অলি-গলির খোলা জায়গায় মানুষের সমারোহে একটা কুকুরও আরেকটা কুকুরের শরীরে চাপে না । অথচ আজ মানুষের অধঃপতন কুকুরের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে । ভালোবাসার নামে নষ্টামীর জড়াজাড়িতে ভরে যাচ্ছে চারপাশ । প্রশ্ন থাকুক, আপনি/আমি কি এ নষ্টামীর বেড়াজাল মুক্ত থাকতে পেরেছি ?

কেউ যদি নিজেদের মান নিলামে তুলে দিতে চাও আপত্তি নাই তবে বাবা-মায়ের মান-সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দিও না । । হোটেলে কিংবা লিটনের ফ্যাল্টে গিয়ে যদি পাকড়াও হবে তবে গন্ডারের চামড়ার মত পুরো বলে তোমাদের বোধ-বিবেকে তার রেশ লাগে না হয়তো কিন্তু তোমাদের বাবা-মায়েরা আত্মহত্যার সুযোগ খোঁজে । কু-সন্তানের বাবা-মা হওয়ার মত আত্মগ্লানি আর জগতে দ্বিতীয়টি নাই । যদি প্রয়োজন হয়, বিবাহের মত চেয়ে বাবা-মায়ের পা ধরে হলেও তাদের রাজী করিয়ে নাও । তবুও নষ্ট বাতাসে সমাজের পবিত্রতা ধ্বংস করার ঢেউ এনো না । বাবা-মায়ের অর্জিত সম্মান নিয়ে খেলা করো না এবং নিজেদের বিবেকবোধ হারিয়ে কুকুরের সাথে একাকার হয়ে যাওয়া মানুষের ধর্ম নয় ।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে