রাখার জায়গা নেই: স্থানীদের কাছেই ত্রাণের শীতবস্ত্র বিক্রি রোহিঙ্গাদের

রবিন আকরাম: সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া শীতবস্ত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। সেই শীতবস্ত্র কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। তবে স্থানীয় দরিদ্রদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র পাচ্ছেন না অথচ রোহিঙ্গারা শীতবস্ত্রসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই রোহিঙ্গাদের কম্বলসহ নানা ত্রাণসামগ্রীর হাট বসছে। আর সেখানেই ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে তারা। রোহিঙ্গাদের দাবি, রাখার জায়গা না থাকায় তারা ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বসবাসরত বাংলাদেশি দিনমজুর জাফর আলম, হেলাল উদ্দিন, বালুখালী এলাকার মফিজ উল্লাহ ও রুবেদা খাতুন অভিযোগ করেন, শীত আসার আগে থেকেই রোহিঙ্গা শীতবস্ত্র পেয়েছে এবং এখনও পাচ্ছে।

তারা এত কম্বল পেয়েছে যে এখন তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। অথচ আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ কম্বল পাচ্ছে না। টাকার অভাবে আমরা কম্বল কিনতেও পারছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়ার মরিচ্যা বাজার, সোনারপাড়া বাজার, কোটবাজার, উখিয়া সদর, কুতুপালং বাজার, বালুখালী বাজার, থাইংখালী বাজার, পালংখালী বাজারসহ টেকনাফের বিভিন্ন হাটবাজারে রোহিঙ্গারা বিক্রি করছেন শীতবস্ত্র ও বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ। খোলা বাজারে বিক্রি করা ত্রাণের মধ্যে রয়েছে ‘ইউএনএইচসিআর’ এর দেওয়া শীতের কম্বল ও ত্রিপল এবং বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া চাল, ডাল, তেল, চিনি, শিশুদের গুড়া দুধ, চিড়া, সাবানসহ নানা ত্রাণসামগ্রী।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রমিজা খাতুন ও আবুল কালাম জানান, পরিবারের সদস্য সংখ্যা খুবই কম। এত কম্বল দিয়ে কী করবো। তাই স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। কিছু নগদ টাকা পাচ্ছি।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালু মাঝি (রোহিঙ্গা সর্দার) জানান, পর্যাপ্ত শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বেশি কম্বল পেয়ে রোহিঙ্গারা অন্যখানে বিক্রি করে দিচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেন, আসলে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের বিপুল পরিমাণ ত্রাণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু, এসব ত্রাণ ও কম্বল রোহিঙ্গারা অন্যত্র বিক্রি করছে বলে শুনেছি। খুব দ্রুত এসব রোহিঙ্গা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে নামবো।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, সরকার এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা যেসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে এর অধিকাংশই খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে রোহিঙ্গারা এখন শীতে কাঁপছে, যাতে কোনও সাহায্যকারী সংস্থা গেলে পুনরায় কম্বল নিতে পারে। এসবের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে যাবো। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে