সন্তানের কাছে প্রতিটি দিনই ‘মা দিবস’

শাহাদাত হোসেনঃ মায়ের তুলনা মা নিজেই। একটি আশ্রয়ের নাম ‘মা’। ছোট এই শব্দটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের স্নেহ-মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। জীবনের গভীর সংকটে প্রথম যাকে স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা। তাই মায়ের চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই। মা শাশ্বত, চিরন্তন। মা তো মাই। মা আছেন, থাকবেন। মায়ের জন্য কোনো দিবস লাগেনা, মা কথাটি ছোট্ট অতি,কিন্তু যেনো ভাই, মায়ের চেয়ে ত্রিভুবনে আপন কেহ নাই’ চির সত্যি। মায়ের চেয়ে আপন আর কেইবা আছে। সৃষ্টির সেই আদি লগ্ন থেকে মধুর এই শব্দটা শুধু মমতার নয়, ক্ষমতারও যেন সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে৷ মার অনুগ্রহ ছাড়া কোনো প্রাণীরই প্রাণ ধারণ করা সম্ভব নয়, হোক সে মানুষ কিংবা কোন প্রাণী। আর যার এতো মমতা আর ক্ষমতা তিনি আমাদের গর্ভধারিণী, আমার মা, মা জননী আমার চির সুখের ঠিকানা৷ মায়ের মতো এতো নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর পৃথীবিতে দ্বিতীয়টি নেই। গর্ভধারিণী, জন্মদাত্রী হিসেবে সবার ওপরে সকলের জীবনে মায়ের স্থান। চির আপন, সবচে প্রিয়, এই মাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সম্মান জানানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে নয় , মাকে ভালোবাসতে যেমন দিন লাগেনা, তেমনি সন্তানের জন্য মায়ের মায়া-মমতা আর নিখাদ ভালোবাসা শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ বয়সেও একই রকম। পরিবার-সামজিক বন্ধনই নয় ধর্মীয় মূল্যায়ণে মায়ের রয়েছে অনেক অনেক সম্মান। ইসলাম ধর্মে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত’, খ্রিস্টধর্মে রয়েছে ‘মাদার মেরির’ বিশেষ গুরুত্ব। আর হিন্দু ধর্মে? মা, মা আর মা। সকল ক্ষেত্রেই মায়ে জয় জয়কার। পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়, প্রতিনিয়ত তারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এটা প্রমাণিত, সত্য। সেই তুলনাহীনা, অমূল্য সম্পদ মা জননীর জন্য কিনা বছরে একটা মাত্র দিন! ভাবা যায় না,তবে হ্যাঁ এ দিবসটা শুধু তাচ্ছিল্য বা মাকে একটা দিনে আটকানোর জন্য নয় বরং মায়ের সম্মানকে আরো বাড়িয়ে দিতেই। সন্তানের কাছে মা যেমন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও পরম পূজনীয় তেমনি প্রতিটা সন্তানের কাছে প্রতিটি দিনই যেনো ‘মা দিবস’৷ চিরদুঃখী যে মা জন্মদাত্রী থেকে শুরু সন্তানের জীবন গড়ার কারিগর হয়ে সবকিছুতেই শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন। ছোটবেলায় হাঁটতে শিখিয়েছে, কথা বলতে শিখিয়েছেন, মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, কতো যন্ত্রণা সয়ে আমাদের বড় করেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকাল আমাদের সমাজে কিছু কিছু জ্ঞান পাপীরা মাকে বোঝা মনে করে। সেই মাকে বৃদ্ধ বয়সে অযত্ন -অবহেলা করে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে মা সন্তানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়লে, যেমন সন্তানরা ছোটবেলায় থাকে। অথচ সেদিনের কথা ভুলে তাদের হাতে তিল তিল করে জীবনধারী সন্তানটি মা কে পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। এই সন্তানের জন্য বিশ্ব মা দিবস আর প্রতিদিন কোনই গুরুত্ব বা সম্মানের নয় বরং অভিশাপের। মায়ের অভিশাপ শুধুই সন্তান নামক অমানুষদের জন্য,মায়ের শেষ ঠিকানা নির্ধারণ করে বৃদ্ধাশ্রমে। ধিক্কার জানাই ঐ সকল জ্ঞান পাপীদের। তবে এরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। আসুন অন্তত একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় নিজেদের বন্দি না করে মায়ের নিখাদ, নির্মল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসাকে প্রতিটি দিন আমাদের জীবনে একাকার করে নিই,   প্রতিদিন পালন করি মা দিবস। মাকে সত্যি ভালবাসলে নির্দিষ্ট কোন দিবসের প্রয়োজন হয়না, সবসময়ই এভাবে ভালবাসা যায়। শুধু বছরের একদিন মাকে নিয়ে ভাবলেই হয়না, সবসময়ই ভাবা যায়, সত্যিকারে তার যথার্থ মর্যাদা দিতে হবে, নইলে এ এক দিনের অভিনয় করে কি লাভ তাই আজ থেকে , প্রতিদিন এক একটি নতুন মা দিবস মায়ের জন্য ভালবাসা সবসময়ের, এবং এ ভালবাসা সব মায়ের প্রাপ্য , বিশ্ব মা দিবসের প্রতি কোন অসম্মান নয়, শ্রদ্ধা আছে। তবে একদিন মাকে মনে রেখে বাকি ৩৬৪ দিন মাকে ভুলে থাকাকে সমর্থন করিনা, তাই আসুন প্রতিদিন মাকে বলি মা তোমায় ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি মা ।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে