সেই সাহসী রুবিনা

ঢাকা: অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে দেশে এসে সৌদি আরবপ্রবাসী রুবিনা পড়েছিলেন এক প্রতারকের খপ্পরে। নিজের কাছে থাকা সব টাকা ও মূল্যবাদ জিনিসপত্র তাজুল নামের ওই ব্যক্তি নিয়ে গেলেও চারদিন পর তাকে ধরতে সক্ষম হন তিনি।

সোমবার ওই ব্যক্তিকে ধরে পুলিশে দিয়ে টাকা উদ্ধার করে জয়পুরহাটে নিজের বাড়িতে গেছেন রুবিনা।

‘ম্যাজিস্ট্রেটস অল এয়ারপোর্টস অব বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক পাতায় রুবিনার সেই টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ মার্চ সকালে সৌদি আরব থেকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পৌঁছান রুবিনা। এরপর বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে পার্কিং এলাকায় ঢুকতেই তাঁর কাছে যান তাজুল। রুবিনা কোথায় যাবেন সেটা শুনতে চান তিনি। রুবিনার বাড়ি জয়পুরহাটে জানতে পেরে তাজুল বলেন, তাঁর বাড়ি দিনাজপুরে, তিনি দুবাইগামী বোনকে বিমানে তুলে দিতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। একথা শোনার পর তাঁকে রুবিনার কিছুটা বিশ্বাস হয়। তিনি তাজুলের সঙ্গে বাসে উঠে গাবতলীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাঁদের ভাই-বোন সম্পর্ক গড়ে তোলেন তাজুল। এরপর বাসেই চলে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প।

বাসটি রাজধানীর ফার্মগেটে এলে রুবিনার ক্ষুধা পায়। তখন তাজুল দ্রুত পাউরুটি আর পানি কিনে তাকে দেন। রুটির টাকা রুবিনা দিতে চাইলে তাজুল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘তুমি সত্যিই আমার বোন হলে আজ এমন করে টাকা দিতে চাইতে না। আসলে পর কখনো আপন হয় না।’

এরপর আবার তারা বাসে উঠে গাবতলী যেতে শুরু করেন। রুবিনা পাউরুটি ও পানি খান। বোতলের পানি খাওয়ার সময় একটু পানি মুখ বেয়ে পড়ছিল রুবিনার। এটা দেখে তাজুল নিজের রুমাল বের করে সযত্নে পানি মুছে দেন। এ সময় রুবিনা বুঝতে পারেন, রুমালের ছোঁয়ায় তার চেতনা কমে আসছে, ধীরে ধীরে চোখও বন্ধ হয়ে আসছে। ওই রুমালে ছিল চেতনানাশক ক্লোরোফর্ম। যা দিয়ে রুবিনাকে চেতনাহীন করা হয়। এরপর রুবিনা ভ্যানিটি ব্যাগ খুলে সব টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান তাজুল। রুবিনা চেয়ে চেয়ে বিষয়টি দেখলেও কিছু বলতে পারেননি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর রুবিনার হাত-মুখ সচল হলে শুরু করেন কান্না। পরে পাশের এক ব্যক্তির থেকে ১০০ টাকা নিয়ে বাস ভাড়া দেন রুবিনা।

এ ঘটনার পর বাড়ি না গিয়ে বিমানবন্দরে ফিরে যান রুবিনা। সেখানে গিয়ে ওই দিন খুঁজে পাননি তাজুলকে। পরে রাজধানীতে শম্পা নামের এক আত্মীয়ের বাসায় যান রুবিনা। শম্পার বাসা থেকেই রুবিনা পরপর তিনদিন বিমানবন্দরে যান অভিযানে। কিন্তু তাজুলকে তিনি খুঁজে পান না। তাই বলে হাল ছাড়েননি। সর্বশেষ পঞ্চম দিন তিনি সফল হন।

বিমানবন্দরেই ধরে ফেলেন তাজুলকে। এরপর ‘বাঘিনীর’ মতো ক্ষিপ্র বেগে রুবিনা গিয়ে তাজুলের শার্টের কলার ধরে ফেলেন। পরে তাকে মারধর করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হাতে তুলে দেন রুবিনা।

পরে পুলিশ তাজুলের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে রুবিনাকে দেয়। টাকা নিয়েই জয়পুরহাটে চলে যান তিনি। আর তাজুলকে পাঠানো হয় জেলে। -ইন্টারনেট।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে