সে এক না দেখা জীবন

সিপাহী রেজা:

জীবন গেলো। তাও গেলো সে বহু বছর আগে কোনো একদিন। ধাক্কা লেগেছে, অথবা কে জানে জীবনই ছুটে গিয়েছিল কিনা সে ধাক্কার কবলে, কে জানে! জীবন যায় এভাবেই, বহুবছর আগের মতো করে এখনো যায়। জগত ভেঙে অন্য জগতে কিংবা কোথাও না, শুধু অনন্ত পড়ে থাকা শূন্য সময়ে- যেদিকে জীবনের ভাষা ছিল, তার মতো করে অন্যদের জীবন ছিল অথবা অন্যদের মতো করে যার কিছু ছিল না। সেসব না থাকার কথা থেকে গেছে কবিতা হয়ে। কবিতার কি তাহলে এক জীবন আছে, যার যার জীবনের মতো? কতকিছুই তো থেকে গেছে, বহুল পঠিত সেইসব পেঁচা থেকে গেছে, চিল, দুপুরের, রাতের, ফাল্গুনের, কীর্তনখোলা শুয়ে আছে এখনো। কিছু কিছু আবার সেতু হয়ে ঝুলে আছে চলে যাওয়া সে জীবন আর এসব বেঁচে যাওয়া সব জীবনের মাঝে। সেসব সেতুরও জীবন আছে হয়ত, সে জীবন ফড়িঙের মতো দোয়েলের মতো, মানুষের সাথে যার দেখা হয় না। সে এক না দেখা জীবন।

বহুকাল পর্যন্ত জীবনবাবুর একটি কি দুইটি ফটোগ্রাফ দেখেছে মানুষ। জীবনবাবুর কবিতা পড়লে যে ছবি ফুটে উঠত তা এ বাংলার, তা এ বাংলার মধ্যে অনেকেরই না দেখা বাংলা। বড় বড় পাথরের ফাঁক ফোঁকরে থেকে যাওয়া ছোট ছোট নুড়িও যে দুইটি হাত ভরে স্থান নিতে পারে তা দেখিয়েছে জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু জীবনবাবুর ছবিকে তো আর উলটে পালটে দেখা যায়নি। গানের দল ‘মেঘদল’ এর শিবু কুমার শীল একবার জীবনবাবুর একটি ছবিতে বিভিন্ন রঙ মেখে আলাদা আলাদা সেসব রঙিন ছবি পাশাপাশি বসিয়ে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছিলেন।

sssaaa

অনেকেই এমন করতে চায়, যে এতো কিছু দেখিয়েছে ভাষায়, কবিতায়, জীবনে, তাকে নানাভাবে দেখতে চায়। তাই জীবনানন্দ দাশের আরো একটি ছবি খুঁজে পাওয়া মানে অনেক কিছু। তেমনি একটি ছবি যা কবির মৃত্যুর এক বছর আগে ১৯৫৩ সালে তোলা হয়েছিল দিল্লির রাজঘাটে। সে ছবিটি সবাইকে দেখানোটা সৌভাগ্য হিসেবেই দেখছি।

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে