সৌদি আরবের প্রচন্ড সমালোচানা মুসলিম বিশ্বসহ সারা বিশ্বের

সৗেদি আরবরে মনিায় পায়রে চাপে পষ্টি হয়ে নজি​ দশেরে হাজরি মৃত্যুর ঘটনায় আজ শুক্রবার ইরানরে রাজধানী তহেরানে সাধারণ মানুষরে বক্ষিোভ
সৌদি আরবের মিনায় পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে নিজ দেশের হাজির মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ
শিমুল : মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কার কাছে মিনা উপত্যকায় প্রচ- ভিড়ের চাপে ৭১৭ জন মারা যাবার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পরেছে সৌদি আরব সরকার। হজ্জ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের যোগ্যতা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছে ইরান। এ বিষয়ে ইরানের পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মুখ খুলেছেন নাইজেরিয়ার হজযাত্রী দলের প্রধানও। একটা প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে, হজের ব্যবস্থাপনা সৌদি আরবের হাতে থাকা উচিত না মুসলমান দেশগুলো যৌথভাবে এ দায়িত্ব পালন করবে।
শুধু তাই না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় বইছে সৌদি আরবের। ফেসবুকে সৌদি আরবের সমালোচানয় একজন লিখেছে,
মিশরী, পাকিস্তানী ও বাংলাদেশি কমপক্ষে পাঁচ জন আলাদা আলাদা মানুষের কাছ থেকে শুনা ঘটনা।

সউদিয়ান শেখ: আমার ছেলেকে মারছো ক্যান?
ভিকটিম: আপনার ছেলে আমাক ঢিল মেরে মাথা/গাড়ীর গ্লাস ফাটায় ফেলছে।
সউদিয়ান শেখ: তোরে ঢিল মারছে তো কি হইছে? আমরা তো এক সময় মুহাম্মদরেও ঢিল মারছিলাম। আর তুই কোন পাকিস্তানি, বাংগালি মিশরি মিসকিন আইসোস তোরে ঢিল মারলে কি হইবো? বাইর হইয়া যা আমগো দেশ থেকে। যত্তসব ফকির, মিসকিনের দলৃ.
এমন অহংকারী ও অপচয়কারীদের হাতে বায়তুল্লার মেহমান কতটুকুই বা নিরাপদ থাকতে পারে আপনারাই বলুনৃৃ

গত ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৫০ হাজি। এত হতাহতের পরও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়নি বা জানান সম্ভব হয়নি, আসলে কোন দেশের কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত যে হিসাব তাঁর পুরোটাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উদ্যোগ থেকে পাওয়া। অথচ ওই ঘটনার পর থেকে যতটুকু জানা গেছে তা সৌদি সিভিল ডিফেন্সের কাছ থেকে। অন্য কোনো সূত্র থেকে তা যাচাই বাছাইয়ের সুযোগ ছিল না।
গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরপরই একজন সৌদি যুবরাজ এ ঘটনার জন্য ‘আফ্রিকান’ হাজিদের দায়ী করে বিবৃতি দিলেন। এত বড় ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে এই ধরনের আলটপকা মন্তব্য করা ঠিক হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। যদি ঠিকই হয়, তাহলে সৌদি বাদশা কেন সেদেশের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের নেতৃত্বে একটি কমিটিকে নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বললেন। হজের কয়েক দিন আগেও গত ১১ সেপ্টেম্বর মক্কার কাছে ক্রেন ভেঙে শতাধিক হাজি নিহত হন। আহত হয়েছিলেন আরও অনেকে। দুটো ঘটনাই আলাদা, কিন্তু এক সঙ্গে ২০ লাখের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জড়ো হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি সরকার আসলেই কতটা ভেবেছিলেন সে প্রশ্ন উপস্থিত হাজি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর।
মিনায় পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে নিজ​ দেশের হাজির মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে। পিইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে সেøাগান উঠেছে। তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের দাবি, তাদের দেশের অন্তত ৬০ জন হাজি আহত হয়েছেন। পুরো ঘটনা নিয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে তেহরান সেদেশের সৌদি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ারকে ডেকে পাঠায়।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই দুঃখজনক ঘটনার দায়িত্ব সৌদি সরকারের নেওয়া উচিত। আর আমাদের উচিত হবে না, যে অব্যবস্থপনা ও ভুলের কারণে এই বিপর্যয় তা এড়িয়ে যাওয়া।’
সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো দেশই তাদের কতজন নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছে তার হিসাব পায়নি। সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ২৩৬, ইরান ১৩১, মরক্কো ৮৭, ভারত ১৪, মিশর ১৪, সোমালিয়া ৮, সেনেগাল ৫, তানজানিয়া ৪, তুরস্ক ৪, আলজিরিয়া ৩, কেনিয়া ৩, ইন্দোনেশিয়া ৩, বুরুন্ডি ১ ও নেদারল্যান্ডসের ১ জন মারা গেছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে মুসলমান জনবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বলেছেন, হজ ব্যবস্থাপনার অবশ্যই উন্নতি হওয়া উচিত যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
নাইজেরিয়ার হজ প্রতিনিধি দলের প্রধানের মতে মিনার ঘটনার জন হাজিদের দায়ী করে সৌদি সরকার ‘ভুল’ করেছে। তিনি বিবিসির রেডিও ফোরকে বলেন, ‘আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানাব, (হজযাত্রীরা) নির্দেশ মানেননি, এই ভুল অভিযোগ যেন না করেন।’
আল দিয়ার নামে একটি আরব দৈনিকে বলা হয়েছে, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ গত বৃহস্পতিবার মিনায় আসেন বাদশাহর (তাঁর বাবা) সঙ্গে বৈঠকের জন্য। প্রিন্সের সঙ্গে ছিল ৩৫০ সদস্যের নিরাপত্তা দল। প্রিন্সের নিরাপত্তার কারণে চলাচল একমুখী করা হয়েছিল এবং এত বড় ঘটনার জন্য এর দায় আছে। যদিও সৌদি আরব এই খবর ‘ঠিক না’ বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হজ ও ট্রাভেল এর পরামর্শক মোহাম্মদ জাফরি বিবিসিকে বলেছেন, ‘যেকোনো ঘটনার পরে, এটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। কিন্তু এটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা না। এটা মানুষের অদক্ষতা।’ সৌদি আরব যাতে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উন্নত করে সে জন্য ব্রিটিশ সরকারকে প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানান জাফরি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সৌদি আরবকে ‘অযোগ্য’ এবং ‘অদক্ষ’ অভিহিত করে তাদেরকে এই ব্যাপক মৃত্যুর জন্য দায়িত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আল-ফালিহ বিপর্যয়ের জন্য হাজিদেরই দায়ী করে বলেছেন তারা নিয়মকানুন অনুসরণ না করায় ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু সবাই তার কথা মানতে রাজি নয়।
নাইজেরিয়ার হাজি দলের নেতা কানো প্রদেশের আমীর মুহাম্মাদি সানুসি বলেন ভিড়ের চাপ আসে যখন জামারাত পিলারে যাবার এবং সেখান থেকে আসার নির্ধারিত রাস্তায় ভিন্নমুখী জনতার স্রোত মুখোমুখি হয়, যেটা হবার কথা না।

“আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা নিয়ম না মানার কারণে হাজিদের দোষারোপ না করেন”, মি: সানুসি বলেন।
সৌদি আরবরে হজ্জ কমিটির প্রধান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করে ‘দ্রুত ফল’ প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন।

মিনার বিপর্যয়ে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক নাগরিক মারা গেছে ইরানের – ১৩১ জন, এবং সৌদি আরবরে এই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী থেকেই সবচেয়ে তীব্র সমালোচনা এসেছে।
“আসল কথা হচ্ছে, হজ্জ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, এবং এই ঘটনার জন্য রিয়াদকে দায়িত্ব স্বীকার করতেই হবে”, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল-এর মুখপাত্র কেয়ভান খোরসাভি বলেন।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান আলাদিন বরুজেরদি অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

ভিড়ের চাপ সৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ছ’টায়, যখন লক্ষ লক্ষ হাজি ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে হজ্জের শেষ রীতি পালন করছিলেন।

হাজিরা ‘জামারাত’ নামের কয়েকটি পিলার লক্ষ্য করে সাতটি পাথর ছুঁড়ে মারেন, যেখানে বলা হয় শয়তান নবী ইব্রাহীমকে প্রলোভন দেখানের চেষ্টা করেছিল।

মিনার পাঁচ-তলা জামারাত সেতুর কাছে হাজিদের দুটো বিশাল লাইন দুই রাস্তা দিয়ে এসে একে অপরের মুখোমুখি হয়।
এটা ছিল দু’সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বিপর্যয়। এ’মাসের ১১ তারিখে মক্কার মসজিদ আল-হারামে একটি বড় ক্রেন ভেঙ্গে পরলে ১০৯ জন মারা গিয়েছিলেন।
নয় বছর আগে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের পর সৌদি আরব অবকাঠামো উন্নয়ন করার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। একই সাথে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হাজি আসায় সৌদি অর্থনীতিও কোটি কোটি ডলার আয় করে। বিবিসি, গার্ডিয়ান, প্রথম আলো

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে