​সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে লিখবেন কে?

ফজলুল বারী:

নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার টাকার বেশি। এ রিপোর্ট যে সাংবাদিকের হাতে লেখা হয়েছে, যাদের হাতে সম্পাদনা, শিরোনাম হয়ে প্রেসে বা অনলাইনে গেছে, তাদের সিংহভাগের নিম্নতম মজুরি বা বেতন বলতে কিছুই নেই! বাংলাদেশের সিংহভাগ সাংবাদিকের এমন ন্যূনতম বেতন অথবা নিয়মিত বেতন বলতে কিছু নেই! বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন নিয়ে একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তোপের মুখে পড়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ নিয়ে সাংবাদিক-কলামিস্টরা নিন্দা করে লিখেছেন, ধুয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রীকে। চতুর্মুখী ধোয়াধুয়ি খেয়ে  অর্থমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশও করেছেন! বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করে লিখতে অনুরোধ করে ফেসবুকের ইনবক্সে এক ছোটভাই লিখেছেন, শিক্ষা একটি অধিকার। তাদের অধিকারের পক্ষে সাংবাদিকরা লিখেছেন, বলেছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের বাজারমূল্য অনুসারে ন্যায্য মজুরি পাওয়ার অধিকার কী আছে বা তারা পাচ্ছেন কি না—এ নিয়ে দেশের ক’জন ভাবেন? সবাই যারা যার অধিকারের প্রশ্নে সাংবাদিকের দ্বারস্থ হন। পক্ষে লিখলে বস্তুনিষ্ঠ মনে করেন। পক্ষে না লিখলে ‘সাংঘাতিক’, ‘খবিশ’সহ নানা গালি দেন! বাংলাদেশের সাংবাদিক জীবনেরও যেন ফিলিস্তিন পরিস্থিতির মতো অবস্থা!

মানবাধিকার প্রশ্নে দুনিয়ার কোথাও পান থেকে চুন খসলে অনেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন! কাঁদেন! কিন্তু ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’-এর মতো ফিলিস্তিনের জীবন যে অবিরাম মানবাধিকার বিবর্জিত সে খবর নিত্য মনে রাখেন কয়জন? বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বেতন পাওয়ার অধিকার অথবা মানবাধিকারের বিষয়গুলোও যেন ফিলিস্তিনিদের মতো! কেউ এ সব নিয়ে ভাবেন না অথবা ভাবনার প্রয়োজন মনে করেন না! একবার খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক সরকারি সাংবাদিকের লেখা রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া বেতন নেন না’! এক সাংবাদিক তখন লিখেছিলেন, ‘কারও সংসার চালাতে বেতন লাগে না, কারও বেতনে সংসার চলে না!’ এই সত্যটি বাংলাদেশের বেশিরভাগ সাংবাদিক জীবনের! বিনা বেতনে অথবা অনিয়মিত বেতনে চলতে গিয়ে কত সাংবাদিকের যে অকালে কতভাবে মৃত্যু ঘটছে! দীনেশ দাশ নামের এক সাংবাদিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর কত লেখালেখি হলো! দীনেশ দাশ ওই সময় চাকরিচ্যুত ছিলেন! বাংলাদেশের বেশিরভাগ পত্রিকা যেখানে বাজারমূল্য অনুসারে বেতন দেয় না অথবা নিয়মিত দেয় না, সেখানে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া ছাড়া যখন একজনকে পত্রপাঠ বিদায় করে দেয়, অথবা পাওনার কথা স্বীকারই করে না, সেখানে তেমন একজন চাকরিচ্যুত ব্যক্তির মনের অবস্থা কি থাকতে পারে? তা শুধু ভুক্তভোগীরাই ধারণা করতে পারেন। তেমন একজন আনমনা সদ্য চাকরিচ্যুত সাংবাদিক রাস্তায় মোটরবাইক নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ দেবে না তো কি তৃপ্তির মোরগপোলাও খাবে?

বাংলাদেশের একজন সাংবাদিক দীর্ঘদিন পেশায় থেকে বেতন না পেতে-পেতে এক পর্যায়ে দেশান্তরী হন। সর্বশেষ তিনি থিতু হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। বাংলাদেশের এক সম্পাদক এসে তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করে নিয়ে যান। মিডিয়া পেশার যারা বিদেশ থাকেন তাদের অনেকে পেশার টানে এমন যেকোনও প্রস্তাবে বিশ্বাস করে দেশে ফিরতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই সাংবাদিক দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে সেই পত্রিকার ভেতরের অবস্থা দেখে ভড়কে যান! সেখানে তার তথ্যমতো তিন থেকে চারজন সাংবাদিককে শুধু বেতন দেয়া হচ্ছিল! বাকিরা বেতন ম্যানেজ করে চলছিলেন! বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করতে যে সাংবাদিককে তিনি একটি এসাইনমেন্ট দিয়েছিলেন, তিনিও বেতন না পাওয়াদের দলের! কিন্তু এরপর যা ঘটলো ভদ্রলোক নিজেই তা বলেছিলেন! তিনি যেহেতু এখন নেই তাই তার নামটিও অনুল্লিখিত রাখা হলো। যাদের দুর্নীতির রিপোর্ট করতে পাঠানো হয়েছিল সেখান থেকে রিপোর্টার নিজের জন্যে পঞ্চাশ, চিফ রিপোর্টার, নিউজ এডিটরের জন্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে নেন অথবা দাবি করেন! এরপর তাদের বলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ছিলেন তাকে পঞ্চাশ দিয়ে হবে না, এক লাখ টাকা দিতে হবে! বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকুরে ওই সাংবাদিকের এক আত্মীয় তাকে ফোন করে বলেন, তুমি অস্ট্রেলিয়া ছিলে ভালো ছিলে, দেশে ফিরে বুঝি এ সব শুরু করেছ? ওই ফোন পেয়েই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই সাংবাদিক! চুপচাপ তিনি অস্ট্রেলিয়া ফিরে আসেন। এখানে ফেরার কিছুদিনের মধ্যে মারা যান। ওই পত্রিকার ওই সাংবাদিককে যদি নিয়মিত বেতন দেওয়া হতো তিনি কি রিপোর্ট করতে গিয়ে এমন কিছু করতেন? তিনি এমন কিছু না করলে কি এই সাংবাদিক টুপ করে এমনভাবে মরে যেতেন? এ সবের দায় কার? বেতন না পাওয়া, ন্যায্য বেতন না পাওয়া অথবা নিয়মিত বেতন না পাওয়া অনেক সাংবাদিক এভাবে বাধ্য হয়ে অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছেন! অথবা অনেকে মরে যাচ্ছেন দিনেশ দাশদের মতো! আবার কেউ কেউ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে পাল তুলে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন! এদের সংখ্যা বেশি নয়। কিন্তু এদের বদনামের ভাগী হচ্ছেন পুরো সাংবাদিক সমাজ।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে সাংবাদিকদের বেতনের অবস্থা নিয়ে তেমন কেউ জোরালো লিখছেন না! তারা নিশ্চয় মনে করেন না যে, সাংবাদিকদের বেতনভাতা লাগে না! এর মাশুল হিসাবে সারা বছর নানা ঘটনা ঘটছে সারাদেশে। বাংলাদেশের যারা জনপ্রিয় সাংবাদিক-কলামিস্ট অথবা টকশো তারকা তাদের অনেকে সর্ব বিষয়ে অভিজ্ঞ! সেটি ওয়াসার পাইপের ভেতর বাচ্চা পড়া থেকে শুরু করে সামরিক বিষয়াদি পর্যন্ত! সবকিছু তারা লেখেন বা বলেন, শুধু লেখেন না বা  বলেন না বেতন না পাওয়া সাংবাদিকদের জীবনের কষ্টগাথার কথা! হয়তো কাক কাকের মাংস খায় না অথবা মনে করেন, তাদের এসব লেখা কেউ ছাপবে না! অথবা তাদের অনেকে সাংবাদিকদের বিনা বেতনে কাজ করান অথবা সেভাবে অভ্যস্ত! তাদের অনেকে বেশ ভালোও আছেন! কিন্তু অধঃস্তন সাংবাদিকদের সংসারের কান্না তাদের পর্যন্ত পৌঁছে না! দেশের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানিয়েই বলছি, আমি বাংলাদেশের শিক্ষকদেরও আগে সাংবাদিকদের বাজারমূল্য অনুসারে ন্যায্য বেতনভাতা, নিয়মিত বেতনভাতা নিশ্চিত করার পক্ষে। কারণ, বাংলাদেশে এখন যত শিক্ষক, তাদের বেশিরভাগের ‘এইম ইন লাইফ’ শিক্ষকতা ছিল না। কিন্তু সাংবাদিকতার স্বপ্ন ছাড়া সাংবাদিকতায় এসেছেন এমন মানুষ পাওয়া যাবে খুব কম। স্বপ্ন ছাড়া সাংবাদিকতায় এসে  থাকতে পারেন না। একজন শিক্ষক এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানে পড়ান। একজন সাংবাদিকের পাঠক কোনও এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। তারা যদি ভালো না থাকেন, তাদের যদি ভালো রাখা না হয়, তাদের কাছ থেকে ভালো কাজ আমরা কী করে আশা করতে পারি?

নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পর ডিইউজের একটি অংশ সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। শুনতে-পড়তে ভালো শোনায় এমন বিবৃতি! হাস্যরসেরও সৃষ্টি করে! কারণ, এখন পর্যন্ত অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত হয়েছে কয়টি পত্রিকায়? কয়টি পত্রিকায় নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়? যারা বিবৃতিটি দিয়েছেন তারাও পরিস্থিতি জানেন। এরপরও দিয়েছেন। কারণ, তাদের এমন মৌসুমি বিবৃতি দিতে হয়। বিবৃতি দেওয়া তাদের কাজ। যদিও ওয়াকিফহালরা জানেন এই ওয়েজবোর্ড জিনিসটিই সংবাদপত্রের তথা মিডিয়াজগতের দুর্নীতির আরেকটি অবলম্বন! বাংলাদেশে সরকারি আশীর্বাদপুষ্ট পত্রিকা ছাড়া কেউ সরকারি বিজ্ঞাপন পায় না!  সরকারি বিজ্ঞাপন পেতে পাঠকপ্রিয় পত্রিকা হওয়া লাগে না! আর বিজ্ঞাপনের নানা পথঘাটও দুর্নীতিগ্রস্ত!  অমুক পত্রিকায় অমুক ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত হয়ে থাকলে এর সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সরকারি বিজ্ঞাপন মূল্যহার নির্ধারিত হয়! অমুক পত্রিকায় সত্যি সত্যি ওয়েজবোর্ড কার্যকর হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সাংবাদিক নয়, সরকারপ্রিয় সাংবাদিক নেতাদের সার্টিফিকেটের ওপর আস্থাশীল! আওয়ামী লীগ-সমর্থক বলে একটি পত্রিকা, বিস্তর সরকারি বিজ্ঞাপন পায়! কিন্তু পত্রিকাটি সেখানকার সাংবাদিক কর্মচারীদের নিয়মিত বেতনভাতা দেয় না! ওই পত্রিকার একজন সাংবাদিক আমাকে যে তথ্য দেন, তা শুনে চমকে উঠি! ওই পত্রিকায় ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত না হওয়ার পরও সেখানে তা বাস্তবায়িত হয়েছে এমন সার্টিফিকেটের বিনিময়ে একজন সাংবাদিক নেতা দশ লক্ষ টাকা চেয়েছেন! এমন যদি ব্যবস্থাদি থাকে, তাহলে কি কোনও পত্রিকা মালিককে তার সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুসারে বেতনভাতা দেওয়া লাগে? বাংলাদেশে এমন চিত্র সব সরকারের আমলেই চলে আসছে।

আসলে বাংলাদেশের মিডিয়ায় আজকের নৈরাজ্যে মূলে দেশের নৈরাজ্যের রাজনীতি-অর্থনীতির কারণে। একটা দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি ভালো-সুবোধ থাকলে অটোমেটিক অন্য সবকিছু সুবোধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের আরেক সমস্যা বাজারে আমার কী চাহিদা আছে না আছে তা না বুঝে চলা! বাকশালের চারটি সংবাদপত্র দেশের একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক গালির নাম! কিন্তু আজকের বাংলাদেশের সত্য বাস্তব হচ্ছে চারটির বেশি পত্রিকা পাঠক প্রিয় নয়। চারটির বেশি পত্রিকা সাংবাদিকদের উপযুক্ত বেতন দেয় না অথবা নিয়মিত দেয় না! কয়টা টিভি চ্যানেল তার সাংবাদিক-কর্মচারীদের ঠিকমতো বেতন দেয়? এত যে অনলাইন পত্রিকা এগুলো কি তার স্টাফদের উপযুক্ত অথবা নিয়মিত বেতন দিচ্ছে? এ সব দেখার দায়িত্ব কার? আপনি একটা দোকান খুলে বসেছেন! আর আপনার সাংবাদিক দুঃস্থ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদানের চেক নিচ্ছে! এতে আপনার লজ্জাও করছে না? অস্ট্রেলিয়ায় একজন জুনিয়র রিপোর্টারকে সপ্তাহে সাড়ে সাতশ ডলারের নিচে বেতন দেওয়া যায় না। সপ্তাহে সাড়ে সাতশ ডলার বেতন দিতে পারবেন না, আবার তাকে একটা মিডিয়া দোকান খুলতে হবে এর জন্যে তো কেউ তাকে হাতেপায়ে ধরেনি! এরজন্যে কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে পত্রিকা-টিভি চ্যানেলের সংখ্যা হাতে গোনা। একজনকে ন্যায্য বেতন দিতে না পারলে উল্টো মোটা জরিমানা দিতে হবে এমন দেখেশুনে কে হায় জীবন খোয়াতে ভালোবাসে! অস্ট্রেলিয়ায় অবশ্য সাংবাদিকতায় পড়াশুনা ছাড়া কেউ সাংবাদিকতা করতে পারেন না। চুল কাটতেও এদেশে ডিপ্লোমা লাগে।

অথচ বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের শতফুল ফুটিতে দাও’—এই আপ্তবাক্যে সারাদেশে খোলা হয়েছে মিডিয়া নামের শতশত দুর্নীতির দোকান! ব্যাংক সলভেন্সি দেখিয়ে ডিক্লারেশন নেওয়া হয়, পত্রিকার অফিস ভাড়া দিতে টাকা লাগে, কাগজ কিনতে প্রেসে টাকা লাগে কিন্তু প্রোডাক্ট যারা তৈরি করেন, সেই সাংবাদিকদের বেতনের খবর নেই, এসব কি দুর্নীতি নয়? আরে বাবা সংবাদপত্রকে ফোর্থ স্টেট বলুন আর যাই বলুন, সারা দুনিয়াতে সংবাদপত্র তথা মিডিয়া তো একটি ব্যবসা। এর পেছনে বিনিয়োগ জড়িত। আপনার পণ্যের যদি বাজার না থাকে, তাহলে আপনি এই দোকানটা কেন খুলেছেন?কেন চালিয়ে যাচ্ছেন? কেন আশা দিয়ে এসবে জড়িত করেছেন হাজার হাজার সাংবাদিককে? বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে আরেক সমস্যা হলো ঢাকার লোকজন যা হোক অফিস থেকে বেতনসহ যা কিছু পায় ঢাকার বাইরের ৯৯ ভাগ অথবা এরচেয়ে বেশি সাংবাদিক তা পায় না অথবা কোনও দিনই পায় না! ঢাকার সাংবাদিক নেতাদের অনেকে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের কথা ভাবেনও না। অথচ তাদের মধ্যে অনেক পরিশ্রমী মেধাবী সৎ সাংবাদিক আছেন। ঢাকার বাইরেও প্রায় প্রতিটা উপজেলায় প্রেসক্লাবও আছে! কোনওটিতে আবার একাধিক প্রেসক্লাব! কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব সাইনবোর্ডের প্রতি সারাদেশের মানুষের কোনও শ্রদ্ধার ধারণা নেই! আগে মফস্বল শহরগুলোয় স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়াতেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা মফস্বলেও কোনও পার্টটাইম পেশা নয়। ফুল টাইম পেশা। কিন্তু এসব ফুলটাইমার কয়জন নিয়মিত অথবা উপযুক্ত বেতন পাচ্ছেন? আগে ঢাকায় বসে অনেক মিডিয়া মাতব্বর একেকজনকে ধরিয়ে দিতেন আইডি কার্ড! এখন ধরিয়ে দিচ্ছেন টেলিভিশনের বুম! একটা সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এসব নৈরাজ্য অবিরাম চলতে পারে না।

সাংবাদিক নেতাদের, দেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা দেশের রাজনীতিকসহ সব শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট মানুষজনকে নিয়ে বসুন। বিশৃঙ্খল মিডিয়া জগতে একটা শৃঙ্খলা নিয়ে আসুন। এমন একটি পন্থা বের করুন যাতে দেশে একজন সাংবাদিকও বাজারমূল্য অনুসারে ন্যায্য মজুরি ছাড়া কাজ না করে। এর জন্যে প্রয়োজনে বাজার চাহিদা অনুসারে দেশে কতটি সংবাদপত্র, টিভি, অনলাইন চলা সম্ভব সেটিও ঠিক করুন। এমন একটি অবস্থা নিশ্চিত করুন, যেন  নির্ধারিত বেতনভাতা দিতে না পারলে, কেউ কোনও মিডিয়া দোকান খুলতে ও চালাতে না পারে। আপনি একজন সাংবাদিককে ন্যায্য বেতন দিতে পারবেন না, তাহলে আপনাকে এসব প্রতিষ্ঠান করতে চালাতে কে হাতেপায়ে ধরেছে? সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আপনারা অনেক মেধাবী, দেশের মানুষ আপনাদের অনেক সম্মান করে। প্লিজ এমন কোনও কাজ করবেন না, যে কাজে আপনি সৎভাবে চলতে পারেন না বা আপনার সংসার চলে না। বাজারমূল্য অনুসারে নির্ধারিত বেতন নিশ্চিত করা গেলে আর নির্ধারিত বেতন ছাড়া কেউ কাজ করবেন না বা করতে পারবেন না, এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে অনেক অপ্রয়োজনীয় ধান্ধাবাজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়বে। দেশ ও সাংবাদিক সমাজও অনেক নৈরাজ্য থেকে বাঁচবে। সাংবাদিক নেতারা উদ্যোগটি নেবেন? এ পেশার মর্যাদা ধরে রাখতে অথবা পুনরুদ্ধারে এমন একটি উদ্যোগ আজ হোক, ক’দিন পর হোক নিতেই কিন্তু হবে।​

লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

কোন মন্তব্য নেই

উত্তর দিতে